জহিরুল ইসলাম। ২০১৬ সালে প্রচণ্ড শীতের মধ্যে বন্ধুদের নিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে টঙ্গী পর্যন্ত শীতবস্ত্র প্রদান করেন। পথে অসংখ্য পথশিশু দৌড়ে এসে বলেছিল, আমরা পড়তে চাই, কাপড় চাই না। তখনই জহির সিদ্ধান্ত নেন অসহায় এই পথশিশুদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করবেন। এরপর গড়ে তুললেন ইনকু্লসিভ স্কুল। ছোট মুখগুলোয় আলোর দ্যুতি ছড়িয়ে দিতে ২০১৬ সালে বন্ধুদের নিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য গড়ে তোলেন ইগনাইট ফাউন্ডেশন। যেখানে শিশুরা বিনামূল্যে পড়াশোনা করতে পারে।

যাত্রাপথ খুব একটা মসৃণ না হলেও অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ভালো একটা অবস্থানে এসেছে 'ইগনাইট ফাউন্ডেশন'। বর্তমানে ইগনাইট ফাউন্ডেশনে প্রায় ১২০ জন দরিদ্র শিশু বিনামূল্যে ইনক্লুসিভ শিক্ষা নিচ্ছে। এ ছাড়া সংগঠন থেকে সাত জেলায় এক হাজারের বেশি ন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল ভলান্টিয়ার্স এবং ৮৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অ্যাম্বাসাডররা সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে। এসব কাজে ইগনাইটের রয়েছে ২৩ সদেস্যর একটি বিশেষ টিম। তিন হাজারের বেশি মানুষকে রক্ত দান, প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ, ৩৭ পরিবারের কর্মসংস্থান তৈরি, নির্মাণ প্রজেক্টে এর মাধ্যমে গৃহহীন মানুষদের ঘর নির্মাণ করে দেওয়াসহ কভিড-১৯ প্রতিরোধে অনলাইনে চিকিৎসা সেবা চালু ও দারিদ্র্য দূরীকরণের মাধ্যমে দেশের অবস্থা উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে সংগঠনটি।

সামাজিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ জহিরুল পেয়েছেন, দ্য ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড, বিজ অ্যাওয়ার্ড, প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড, ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড এবং জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডসহ বেশ কিছু সম্মাননা।

নিজের কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে জহিরুল ইসলাম বলেন, 'শুরুতে শিশুদের নিয়ে কাজ করলেও এখন কাজের পরিধি বেড়েছে। বর্তমানে সুবিধাবঞ্চিত শিশু, নারী এবং যুব ক্ষমতায়ন, সামাজিক বৈষম্য, শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করছি। আগামীতেও কাজ করে যাব।'