ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ ২০ মার্চ সমকালের সম্পাদকীয় পাতায় 'দুর্জনের নেই ছলের অভাব' শিরোনামে উপসম্পাদকীয়তে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির খণ্ডচিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে ইউলুপ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অপচয়ের একটি দিকের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এভাবে তার বাসার পাশের সড়কের উন্নয়ন কাজের অনিয়মের চিত্রও তিনি তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, 'বাংলাদেশের মতো দারিদ্র্যক্লিষ্ট দেশ কোনোক্রমেই সম্পদের অপব্যবহার করতে পারে না। প্রাপ্ত সম্পদকে সুষ্ঠু এবং দক্ষভাবে ব্যবহার করতে না পারলে দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। অথচ প্রতিনিয়ত আমরা দেখছি এ দেশে সীমিত সম্পদের অপচয়। সাম্প্রতিক সময়ে আমার বাসস্থানের পাশ দিয়ে যে সড়কটি গেছে তার ফুটপাত ভেঙেচুরে এতটাই জঞ্জাল আকীর্ণ করেছে যে, এই পথ দিয়ে হাঁটাই অসম্ভব। ৬-৭ মাস আগেও এমনিভাবে এই ফুটপাতের উন্নয়ন করতে দেখেছি।'
'উন্নয়ন' শব্দটিকে ব্রাকেটবন্দি করে ড. মাহবুব উল্লাহ অনেক বড় বার্তা দিয়েছেন। এ রকম অব্যবস্থাপনা আর সঠিক পরিকল্পনার অভাবে প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হচ্ছে। আমরা এরই মধ্যে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সামনে অগ্রসর হতে না পারলে এ ধারাবাহিকতা ধরে রেখে উন্নত বাংলাদেশ হয়ে ওঠার স্বপ্ন ফিকে হয়ে যাবে। আরেকটি প্রকল্পের জন্য যে অবকাঠামো ভেঙে ফেলতে হচ্ছে; তাহলে কেন তা নির্মাণ করা হয়েছিল? এসব সাময়িক স্বস্তির নামে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়ের জবাবদিহি করার সময় এসেছে। অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশে দুর্নীতি বেড়েছে। দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন-অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে হবে। দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন আরও জোরদার করতে হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও অধিক কার্যকর করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে অনেক দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনতে দেখেছি। কিন্তু রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়ের সঙ্গে জড়িত বা ভুল পরিকল্পনার কারণে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়কারীদের কি আইনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা ভাবা হয়? দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের সাবেক একজন চেয়ারম্যান সংস্থাটিকে নখদন্তহীন বাঘ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। আমরা চাই দুদক শক্তিশালী হোক এবং অপচয়কারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক। রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের কয়েকটি চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরায় ড. মাহবুব উল্লাহকে ধন্যবাদ।
যুগ্ম মহাসচিব, নিরাপদ সড়ক চাই