রোজার শুরু সেহরির মাধ্যমে। সারাদিন না খেয়ে থাকলেও ইফতারে থাকে মহাআয়োজন। নিজেকে সুস্থ রাখতে সেহরিতে রাখতে পারেন পুষ্টিকর খাবার। তেমনই কিছু রেসিপি দিয়েছেন মারজানা ইসলাম মেধা

দই-চিড়া
উপকরণ :টক বা মিষ্টি দই দুই কাপ, লাল চিড়া এক কাপ, কলা দুটি, লাল চিনি এক টেবিল চামচ, লেবুর রস এক টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালি :লাল চিড়া ভালো করে ধুয়ে ভিজিয়ে রাখুন আধা ঘণ্টার মতো। একটি বাটিতে পরিমাণমতো মতো দই নিন। দই মিষ্টিও হতে পারে, আবার টকও হতে পারে। নির্ভর করে আপনার পছন্দের ওপর। এবার খাঁটি দই, লাল চিড়া, কলা, লাল চিনি, লবণ ও লেবুর রস একসঙ্গে নিয়ে মেখে নিন। তৈরি হয়ে গেল মজাদার দই-চিড়া।

মাশরুম স্যুপ
উপকরণ :চার কাপ মাশরুম, চার কাপ বোনলেস চিকেন (ছোট ছোট পিস করে কাটা), চারটি ডিমের কুসুম, পরিমাণমতো মাখন, দুই কাপ দুধ, স্বাদমতো নুন, ধনেপাতা পরিমাণমতো, পরিমাণমতো গোলমরিচ গুঁড়া, পানি প্রয়োজনমতো।
প্রস্তুত প্রণালি :প্রথমে হালকা গরম পানি দিয়ে চিকেনের পিসগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে বাড়তি জল ঝরিয়ে একপাশে রেখে দিন। এর পরে মাশরুমগুলো ধুয়ে নিয়ে টুকরা টুকরা করে কেটে নিন। মাঝারি আঁচে প্যান বসিয়ে তাতে কিছুটা মাখন দিন। মাখন গলে গেলে মাশরুম দিয়ে ভাজুন। তারপর প্যানে চিকেন ও জল দিয়ে ফোটান। এরপর তাতে ডিমের কুসুমগুলো দিয়ে সমস্ত উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে ঢাকনা দিয়ে দিন। মাংস সিদ্ধ হয়ে গেলে তাতে দুধ, গোলমরিচ ও স্বাদ অনুযায়ী লবণ দিন। ঘন ঘন নাড়তে থাকুন। ওপরে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিন। স্যুপটি ঘন হয়ে এলে গ্যাস বন্ধ করুন এবং গরম গরম পরিবেশন করুন।

পাবদা মাছের ঝোল
উপকরণ :চারটি পাবদা মাছ, একটি ছোট পেঁয়াজ কুচি করা, একটি ছোট টমেটো কুচি করা, এক চা-চামচ জিরা গুঁড়া, এক চা-চামচ হলুদ গুঁড়া, ১/২ চা-চামচ মরিচ গুঁড়া, পাঁচ-ছয়টা ফালি কার কাঁচামরিচ, এক চিমটি কালিজিরা, পরিমাণমতো সরষের তেল এবং স্বাদমতো লবণ।
প্রস্তুত প্রণালি :মাছে লবণ ও হলুদ মেখে রাখতে হবে। কড়াইতে তেল দিতে হবে। তেল গরম হলে মাছগুলো ভেজে তুলে রাখতে হবে। তারপর কালিজিরা ও দুটি কাঁচামরিচ দিয়ে নাড়াতে হবে। পেঁয়াজ কুচি ভেজে টমেটো কুচি দিতে হবে। টমেটো গলে গেলে সব গুঁড়া মসলা দিতে হবে। তারপর পরিমাণমতো পানি ও লবণ দিন। ফুটে গেলে ভেজে রাখা মাছ দিয়ে ঢাকা দিতে হবে। কিছুক্ষণ রান্না করে ছেড়ে কাঁচামরিচ আর অল্প সরষের তেল ছড়িয়ে নামিয়ে নিতে হবে।

সবজির স্বাদ
উপকরণ :ছয়-সাত রকমের পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া, মটর, শিম, আলু, ফুলকপি, বেগুন, কাঁচা টমেটো, গাজর- সব সবজি কিউব বা ছোট করে কেটে সমপরিমাণ করে নিতে হবে। সবকিছু এক কাপ করে নিতে হবে। এ ছাড়া ছোলার ডাল ১/২ কাপ, পেঁয়াজ কুচি দু-তিনটি বড়, কাঁচামরিচ ফালি ৮-১০টি, হলুদ ও ধনে গুঁড়া এক চা চামচ, মরিচের গুঁড়া+জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ, ধনেপাতা কুচি এক মুঠো, লবণ স্বাদমতো, তেল রান্নার জন্য দুই টেবিল চামচ। ফোঁড়নের জন্য লাগবে থ্যাঁতো করা রসুন ছয়-সাত কোয়া, শুকনা মরিচ তিন-চারটি, অল্প একটু গরম মসলা, তেজপাতা দু-তিনটি, আস্ত জিরা দেড় চা-চামচ ও তেল পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালি :প্রথমে ছোলার ডাল ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। ডাল ফুলে উঠলে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন। এবার হাঁড়িতে সব সবজি ও ডাল নিয়ে তাতে অর্ধেক পেঁয়াজ কুচি, কাঁচামরিচ, হলুদ-মরিচ-ধনিয়া-জিরা গুঁড়া, দুই টেবিল চামচ তেল ও লবণ দিয়ে খুব ভালোভাবে মাখিয়ে নিতে হবে। তারপর হাত ধোয়া পানি দিয়ে দিন। সবজি ও পানি সমান সমান থাকলেই হবে। এইবার হাঁড়িটি ঢেকে আঁচ বাড়িয়ে দিন। পানি ফুটে উঠলে আঁচ মাঝারি করে রান্না করতে হবে। মাঝেমধ্যে নেড়ে দিতে হবে। পেঁপে-আলু সেদ্ধ হয়ে গেলে ঢাকনা খুলে দিন। পানি টেনে এলে ধনেপাতা মিশিয়ে হাঁড়িটি চুলা থেকে নামিয়ে ঢেকে রাখুন। প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ ও রসুন দিয়ে ভেজে নিতে হবে। হালকা বাদামি হলে তার মধ্যে আস্ত জিরা, শুকনো মরিচ আস্ত তিন-চারটি, অল্প গরম মসলার গুঁড়া ও তেজপাতা দিয়ে একসঙ্গে একটু নেড়ে নিন। মিশ্রণটি সবজির ওপর ঢেলে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকনা দিয়ে দিতে হবে।

লাল চালের ভাত
উপকরণ :লাল চাল এক কেজি এবং পানি চার কাপ।
প্রস্তুত প্রণালি :চাল ভালো করে ধুয়ে চার পট পানি দিয়ে হাতের কড়া মাঝ কড়া পর্যন্ত পানি এলে ভাতের হাঁড়ি চুলায় দিয়ে দিতে হবে ঢাকনা। মাড় তৈরি হলে চুলার আঁচ কমিয়ে দিতে হবে। পানি শুকিয়ে এলে একদম কমিয়ে পাঁচ মিনিট রাখলেই তৈরি হবে লাল চালের ভাত।