চাকরি ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ঠিকাদারির দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ছাত্রলীগের নেতারা উপাচার্যের কক্ষে গিয়ে উচ্চবাচ্য করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনার পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্যের গাড়ি আটকে দেন। প্রায় ১০ মিনিট গাড়ি আটকে রাখার পর উপস্থিত শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে তারা উপাচার্যের গাড়ি ছেড়ে দেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। 

সেখানে উপস্থিত একজন শিক্ষক সমকালকে জানান, দুপুরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিয়োগ-টেন্ডারসহ নানা দাবি নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে যান। উপাচার্য তাদের দাবি না মানায় একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা শুরু করেন নেতাকর্মীরা। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্যের গাড়ি আটকে আবারও বাকবিতণ্ডা শুরু করেন। 

 উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম. আবদুল মঈন বলেন, ছাত্রলীগ কিছু অন্যায় দাবি নিয়ে এসেছিল। আমি এসব দাবি মানতে পারব না বলায় তারা আমার গাড়ি আটকে রাখে।

তবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চাকরি ও ঠিকাদারির কাজ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা বলছেন, নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা হলের কাজ সম্পন্ন করা, রমজানের মধ্যেই ছাত্রীদের সেখানে ওঠানো এবং নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে পানির সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি নিয়ে তারা উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। 

কুবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, উপাচার্য আমাদের দাবি শুনে রাগারাগি করে বেরিয়ে যান। এতে বিভিন্ন হল সভাপতি-সেক্রেটারির সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়।

এ বিষয়ে উপাচার্য বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, মেয়েদের হলের সমস্যা হলে কোনো ছাত্রী কেন দাবি জানাতে উপস্থিত ছিল না? তারা মূলত কিছু অন্যায় দাবি নিয়ে এসেছে। অন্যায় দাবিগুলো কী ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো সবাই জানে। আমার বলার দরকার নেই। তাদের দাবি ন্যায্য হলে তারা লিখিত দেয়নি কেন?

কুবি ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ সমকালকে বলেন, আমরা কোনো অন্যায় দাবি নিয়ে যাইনি। আমরা আগামী রোববারই সব দাবি লিখিতভাবে দেবো।