চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ইফতেখার মালিকুল মাশফিক (৭) নামে এক মাদরাসাছাত্রকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। 

শনিবারসকালে উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের আল্লাহুম্মা হযরত শেখ অছিয়র রহমান ফারূকী এতিমখানা ও হেফজখানায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে সমকালকে জানান বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল করিম।

নিহত মাশফিক একই ইউনিয়নের ফকিরাখালী এলাকার প্রবাসী আবদুল মালেকের সন্তান। সে তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। 

মাশফিক গত বছরের অক্টোবর মাসে ওই হেফজখানায় নাজেরা বিভাগে ভর্তি হয়। ছয় মাস না পেরোতেই নৃশংসভাবে খুনের শিকার হয় শিশু মাশফিক। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।

নিহতের মামা মাসুদ খান বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মাদ্রাসার এক শিক্ষক বাড়িতে গিয়ে মাশফি বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে আর ফিরেনি। খবর পেয়ে আমরা মাদ্রাসায় ছুটে যাই। মাদরাসাছাত্ররাসহ আমরা সকলে আশপাশের এলাকায় তাকে খুঁজতে থাকি। একপর্যায়ে কয়েকজন মাদরাসাছাত্র স্টোর রুমে মালামালের চাপায় পা দেখতে পেয়ে চিৎকার করে কান্না করতে থাকলে সেখানে এগিয়ে যাই। স্টোররুমে ব্যানারে মোড়ানো মাশফির গলাকাটা রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখতে পাই। সেখান থেকে নিচে নিয়ে আসি। 

তিনি অভিযোগ করেন, এসময় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে মাশফির নিথর দেহ পুনরায় স্টোররুমে নিয়ে রেখে দিয়ে মাদরাসার গেইটে তালা দিয়ে রাখে। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি আবদুল করিম বলেন, শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাফেজ জাফর আহম্মদ (৫২), হাফেজ রুস্তম আলী (৩৭) ও শাহাদাত হোসেন (৩৫) নামে মাদরাসার তিন শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। 

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’