দিনাজপুরের খানসামায় মুজিববর্ষের উপহারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ভূমিহীনদের না দিয়ে জমিজমা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং এসব বাড়ি টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এসব অভিযোগ তুলে গতকাল সোমবার দুপুরে খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের ডাঙ্গারহাট এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভূমিহীনরা। এর আগে তারা আরাজি জাহাঙ্গীরপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়িঘরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এ সময় তারা অনিয়ম করে বরাদ্দ দেওয়া বাড়িঘরে তালা দিয়ে রাখেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার ভূমিহীনরা বাড়ি না পেলেও বিত্তশালীরা টাকার বিনিময়ে পেয়েছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি। এমনকি বাড়ি পেয়ে অনেকে সেই বাড়ি অন্যের কাছে বিক্রি করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যানসহ সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে।
এর আগে গত রোববার বিকেলে এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খানসামার ইউএনও বরাবর অভিযোগ করেন ভূমিহীনরা। অভিযোগে ৬০ জন ভূমিহীন স্বাক্ষর করেছেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন পরিষদের তহশিলদার মোকতার হোসেন টংগুয়া বাজারের সেফালী আকতারের কাছে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে আরাজি জাহাঙ্গীপুর গ্রামের বাড়ি বরাদ্দ দিয়েছেন। এই এলাকায় এমন বহু মানুষের কাছে টাকা নিয়ে বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ ওই গ্রামে প্রায় ১০০টি ভূমিহীন পরিবার রয়েছে, যাদের কাউকেই বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে টংগুয়া বাজারের অনেককে বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তবে তহশিলদার মোকতার হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি যে কোনো শাস্তি পেতে প্রস্তুত।
ওই এলাকার ভূমিহীন আবু তালেব বলেন, তারা রোববার ইউএনও বরাবর অভিযোগ দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে এক ঘণ্টা বাইরে দাড়িয়ে ছিলেন। পরে ইউএনওর সাথে দেখা করলে তিনি উল্টো পুলিশ পাঠিয়ে তাদের উঠিয়ে নেওয়ার হুমকি দেন।

ভূমিহীন মরিয়ম বেগম বলেন, তার ঘরবাড়ি ও জমি নেই। বাড়ি বরাদ্দের ব্যাপারে তিনি মেম্বার-চেয়ারম্যানদের কাছে গিয়েছেন। কিন্তু টাকা ছাড়া বাড়ি পাওয়া যায় না। মানুষের বাড়িতে কাজ করে খান; তিনি কোথা থেকে টাকা আনবেন বলে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

মোস্তফা শেখ বলেন, এই গ্রামে অনেক মানুষ টাকা দিয়ে বাড়ি কিনেছেন। অনেকে বাড়ি বরাদ্দ নিয়ে সেখানে থাকেন না। আবার অনেকের বাইরে জমি আছে; কিন্তু তারাও বাড়ি পেয়েছেন। অথচ গ্রামের বহু ভূমিহীন বাড়ি পাচ্ছেন না। তিনি সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ সরকারকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে বাড়ি নিয়েছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ সরকারের মধ্যস্থতায় ৩০ হাজার টাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি বাড়ি কিনে নিয়েছেন ওই গ্রামের হুসেন আলী। তার ছোট ভাই মোমিনুল ইসলাম বলেন, তার বড় ভাই সাবেক চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় একটি বাড়ি কিনেছেন। তার ভাই ঢাকায় থাকেন। তাই তিনি (মোমিনুল) এই ঘরে থাকেন।

ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ সরকার বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা।
এদিকে বাড়িঘরে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচির কথা শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন খানসামার ইউএনও রাশিদা আক্তার। তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে অন্য ইউনিয়নের ভূমিহীনদেরও বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি প্রকৃত ভূমিহীন হন, তাদের বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর পরের ধাপে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৫২টি বাড়ি নির্মাণ করা হবে। সেখানে ভূমিহীনদের বরাদ্দ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, হুমকি দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। তার বিরুদ্ধে কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে।