সিলেট বিআরটিএ অফিসে সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. সানাউল হকসহ তিনজনকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপসারণের দাবি জানিয়েছে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। 

তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ-চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজী ময়নুল হক। 

তিনি বলেন, ‘লাইসেন্স নবায়ন ও ডোপ টেস্ট নিয়ে চালকদের পদে পদে হয়রানি করছেন সহকারী পরিচালক ও রেকর্ড রুমে কর্মরত দুইজন কর্মচারী। এদের অপসারণের দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী রোববার ভোর থেকে সিলেটে কোনো গাড়ি চলাচল করবে না।’

পরিবহন শ্রমিক নেতা হাজী ময়নুল হক অভিযোগ করেন, ‘বিআরটিএ অফিসের দুর্নীতির কারণে শ্রমিকরা ডাইভিং লাইসেন্স পাচ্ছেন না। ২০১৯ সালে জসিম নামে একজন ফাইল জমা দিয়ে এখনও লাইসেন্স পাননি। ২০১৮ সালে আমি নিজে ফাইল জমা দিয়েছি। কিন্তু লাইসেন্স পাইনি।’ 

তিনি বলেন, ‘লাইসেন্সের ফাইল জমা দিতে গেলে ১৫০০ টাকা দিতে হয়। এগুলো কিসের টাকা? আজ (বুধবার) দুজন শ্রমিক লাইসেন্স করতে গেলে তাদের কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। খবর পেয়ে ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বিআরটিএ অফিসে গেলে তারা দুর্ব্যবহার করেন।’

লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হওয়ার পর হয়রানি আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন ময়নুল হক। 

তিনি দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করে ডোপ টেস্টের অজুহাতে লাইসেন্স আটকে দেওয়া হয়। অথচ ৪-৫ হাজার টাকা অনায়াসে লাইসেন্স পাওয়া যায়। এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই পরিবহন শ্রমিক নেতা। 

চালক-শ্রমিকদের সুবিধা-অসুবিধা বিষয়ে আলোচনার জন্য আরটিসির (আঞ্চলিক পরিবহণ কমিটি) সভাও আহ্বান করা হয় না বলে অভিযোগ করেন তিনি। জেলা প্রশাসককে সভা না হওয়ার বিষয় অবহিত করার কথা জানান।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. সানাউল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি কল ধরেননি।