চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ভাটিয়ারীতে কয়েকশ বছরের পুরোনো ধামার খালটি দখল হয়ে যাচ্ছে। খালের দুই পাশ ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে গুদামসহ বিভিন্ন স্থাপনা। দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের অধিকাংশই দখল করেছে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক। দখলের প্রমাণ পেয়ে গত মঙ্গলবার খালের ওপর স্থাপনা বন্ধের নোটিশ দিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)।

জানা গেছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাতারপ্রবাসী মোহাম্মদ রফিককে খালের ওপর নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে আগে যারা এই খাল দখল করেছে তাদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জঙ্গল ভাটিয়ারী টোব্যাকো গেট এলাকায় ধামার খালটি পূর্বের পাহাড় থেকে নেমে স্থানীয় সীমা অটো রি-রোলিং মিল ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির পাশ দিয়ে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় গিয়ে মিশেছে।

এলাকাবাসী বলছেন, স্থানীয় একটি শিল্পকারখানার মালিক ও মোহাম্মদ রফিক নামের এক প্রবাসীসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এই খালটি দখল করে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছেন। পরিবর্তন করেছেন পানিপ্রবাহের গতিপথও। প্রায় ৬০ ফুট প্রশস্ত খালটি দখলের কারণে এখন ছয় থেকে আট ফুটের নালায় পরিণত হয়েছে। ফলে বর্ষাকালে ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে কয়েকটি গ্রামে জলাবদ্ধতাসহ বন্যা দেখা দিতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগে থেকে এই খালটি পর্যায়ক্রমে দখল করে আসছে কয়েকজন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি। সম্প্রতি (প্রায় এক মাস ধরে) টোব্যাকো গেট এলাকায় খালের একাংশে দেয়াল তুলছিলেন কাতারপ্রবাসী রফিকের লোকজন। কাজের দেখাশোনা করছিলেন ফোরকান উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। এর ফলে পাহাড়ি ঢলে এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করলেও শোনেননি তারা। বরং কয়েকজন মিলে দ্রুত দেয়াল নির্মাণের কাজ করতে থাকেন। স্থানীয় লোকজনের দাবি, খালটির কোথাও ৩০ ফুট আবার কোথাও ৪০ ফুট ইতোমধ্যে দখল করে ফেলেছেন ওইসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। এ কাজে তারা স্থানীয় সরকার দলীয় কিছু নেতাকে ব্যবহার করছেন।

ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ অহিদুল আলম বলেন, দীর্ঘ দুই কিলোমিটার খালের অধিকাংশ জায়গা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দখল করে কয়েক বছর থেকে স্থাপনা নির্মাণ করছে। তাদের অনেকবার খাল দখল বন্ধ করতে বললেও তারা এতই প্রভাবশালী যে তার কথা শোনেনি। সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষও যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ওই সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান খাল দখলে মহোৎসবে মেতে উঠেছে। তিনি খাল দখলকারী সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

স্থাপনা নির্মাণের কাজ বন্ধ করা ও নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত রফিকের প্রতিনিধি ফোরকান উদ্দিন জানান, তিনি নির্মাণকাজের দেখাশোনা করছেন। নিজস্ব জমিতে তারা গুদাম নির্মাণ করছিলেন। কিন্তু সীমানাপ্রাচীরের কিছু অংশে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। ভূমি কার্যালয়ের কয়েকজন এসে তাদের দেয়ালের কিছু অংশ সরকারি খালের মধ্যে পড়েছে বলে জানিয়ে দিয়ে গেছেন। এ জন্য মঙ্গলবার একটি নোটিশ দিয়েছে ভূমি কার্যালয়। তারা শুনানিতে যাবেন। পরে যেভাবে নির্দেশনা আসবে, সেভাবে কাজ করা হবে।

সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম জানান, তিনি সার্ভেয়ার পাঠিয়ে প্রাথমিকভাবে পরিমাপ করে খাল দখলের সত্যতা পেয়েছেন। এজন্য কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। পাশাপাশি মালিকপক্ষ ও তার প্রতিনিধিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে শুনানি শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া যারা আগে খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।