চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে আমবাগানে কুড়িয়ে পাওয়া ককটেল বিস্টেম্ফারণে আহত হয়েছিল শিশু রিমন ওরফে ইমন। উন্নত চিকিৎসার অভাবে তার চোখ নষ্ট হতে চলেছে। ঘটনার ১৭ দিন পার হলেও তার খোঁজ নেয়নি কেউ।

ইমন (১১) শিবগঞ্জ পৌর চতুরপুর মহল্লার আনারুল ইসলামের ছেলে ও আলীডাঙা জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে সে।

গতকাল বুধবার শিবগঞ্জ পৌর চতুরপুর মহল্লায় ইমনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি কক্ষে বিছানায় শুয়ে আছে ইমন। পাশেই বসা মা শিউলি বেগম। যে ইমনের এখন পড়ার টেবিলে থাকার কথা, সে এখন চোখ হারানোর শঙ্কা নিয়ে কাতরাচ্ছে।

শিউলি বেগম জানান, ছেলের চিকিৎসার জন্য বাড়ির চারটি ছাগল বিক্রি করা হয়। একই সঙ্গে আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার করে ছেলের চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসকরা বলেছেন, এক মাস পর আবার ছেলেকে দেখিয়ে নিয়ে আসতে হবে। তিন মাস পর ছেলের অপারেশন করতে হবে।

ইমনের বাবা আনারুল ইসলাম ভ্যানচালক। মাঝেমধ্যে তাঁত শিল্পের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। কিন্তু ছেলের চিকিৎসা করাতে তার রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। ইমনের চিকিৎসার জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, তার ছেলে তো কোনো দোষ করেনি। তবে কেন অন্যের হিংসার বলি হবে। এর দায় কার?

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আজিজুল ইসলাম আজু জানান, ইমনের পরিবার সহযোগিতা চাইলে সাধ্যমতো সহায়তা করা হবে।
শিবগঞ্জ থানার ওসি চৌধুরী জোবায়ের আহাম্মদ জানান, এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ১৭ মার্চ শুক্রবার আওয়ামী লীগের বিবদমান দুটি পক্ষের বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করে। প্রশাসন স্টেডিয়াম এলাকায় সব ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করে। এদিন দুপুরে ইমন ও তার ছোট ভাই ইকবাল শিবগঞ্জ স্টেডিয়াম সংলগ্ন পশ্চিম দিকের আমবাগানে গাছের পাতা ও ডালপালা কুড়াতে যায়। এ সময় ইমন একটি পরিত্যক্ত ককটেল দেখে পা দিয়ে নাড়াচাড়ার চেষ্টা করলে ককটেলটি বিস্টেম্ফারিত হয়। এতে ইমনের বাম চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান জখম হয়।