হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পর খুলনার তেরখাদায় ১১ বছরের শিশু দ্বীন ইসলাম হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ২ জনকে আটকের পর তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। রোববার দুপুরে পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই এর পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান জানান, ২০১৯ সালের ২২ জুলাই দুপুরে ৫ জন যুবকের সঙ্গে মুলিশিয়া খালে গোসল করার সময় দ্বীন ইসলাম সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এতে দ্বীন ইসলাম ষষ্ঠ হলে অন্যরা তাকে বিদ্রুপ করে। তখন দ্বীন ইসলাম তাদের গায়ে কাদা ছুড়ে মারে। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ইট ছুড়ে মারলে দ্বীন ইসলামের মাথায় লাগে এবং সে পানির নিচে তলিয়ে মারা যায়।

পিবিআই জানায়, খুলনার তেরখাদা উপজেলার লস্করপুর গ্রামের আজিজুর রহমান শেখের ছেলে দ্বীন ইসলামকে ২০১৯ সালের ২২ জুলাই দুপুরে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা এলাকায় মাইকিং করেন। পরে রাত ১০টার দিকে স্থানীয় মুলিশিয়া খালে তার মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার বাবা আজিজুর রহমান শেখ তেরখাদা থানায় অপমৃত্যু মামলা করেন।

পরবর্তীতে ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে মাথায় আঘাতজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তখন তার পরিবারের সদস্যরা হত্যা মামলা করতে রাজি হয়নি। এর প্রেক্ষিতে তেরখাদা থানার এসআই মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর হত্যা মামলা করেন। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর পিবিআই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।

পুলিশ সুপার জানান, সোর্স ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে গত ৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মো. মুছা শেখ (২৭) ও মো. হানিফ শেখ ওরফে রমজান শেখকে (২১) আটক করে। মুছা লস্করপুর গ্রামের মো. কালন শেখের ছেলে এবং হানিফ একই গ্রামের ইমলাক শেখের ছেলে। ইতোমধ্যে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ব্যাপারে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও ৩ জনের নাম প্রকাশ করেছেন।

এ ঘটনায় জড়িত লস্করপুর গ্রামের উতার আলী সরদার (২৪) ও ফেরদৌস শেখকে (২৪) এক বছর আগেই আটক করা হয়েছিল। তবে রিমান্ডে নেওয়া হলেও তখন তারা হত্যার কথা স্বীকার করেনি। এ ঘটনায় জড়িত লস্করপুর গ্রামের আলাল সরদারের ছেলে হানিফ সরদার (২১) এখনও পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ সুপার জানান, মুছা শেখ ও হানিফ শেখ এলাকা থেকে ৩ বছর চট্টগ্রামে পালিয়ে ছিল। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা মোবাইল ফোনও ব্যবহার করতেন না। মাঝেমাঝে অন্যের ফোন দিয়ে বাড়িতে যোগাযোগ করতেন।

সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর হযরত আলী জানান, নিহত দ্বীন ইসলাম খালে-বিলে মাছ ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে মৌসুমী ফল বিক্রি করতো। শিগগিরই এই হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত হানিফ সরদারকে আটকের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।