ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ৩০ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে স্কুল, মাদ্রাসা, ইউনিয়ন পরিষদসহ প্রায় ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে গেছে। এর মধ্যে শতাধিক বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। সোমবার ভোর রাতে বয়ে যাওয়া ঝড়ে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ১৪টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। দুই শতাধিক বিদ্যুতের মিটার নষ্ট হয়েছে।

এছাড়াও শিলাবৃষ্টিতে কয়েকটি ইউনিয়নে প্রায় তিন হাজার হেক্টর ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে আধপাকা বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাইদ তারেকের দাবি, শিলাবৃষ্টিতে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ফসলের ক্ষতি হয়েছে। যার পরিমাণ ১৫০ হেক্টের। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি ফসলের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার হেক্টর। 

জানা যায়, ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ভলাকুট ইউনিয়নে। সেখানে ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদ, খাগালিয়া গ্রামে ৬৫টি ঘর, বাঘী ও কুটুই ২০টি ঘর, বালিখোলায় ৫০টি ঘর, মাদ্রাসা দুটি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি। ভলাকুট বাজারে ২০টি দোকান এবং ওই গ্রামে ৭০টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়াও নাসিরনগর সদরে ধরকুড়া গ্রামে ১০টি ঘর, কুন্ডা ইউনিয়নে একটি কিন্ডারগার্ডেনসহ ১০টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বুড়িশ্বর ইউনিয়নে ৫টি ঘর।

ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রুবেল মিয়া বলেন, হঠাৎ ঝড়ে ইউনিয়ন পরিষদের চালা বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। পরিষদে থাকা উপকারভোগীদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও অফিসের কম্পিউটারটি নষ্ট হয়ে গেছে।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধনকুড়া গ্রামের বৃদ্ধ মো. সিদ্দিক মিয়া বলেন, ‘ঝড়ের তাণ্ডবে ঘুম ভাঙে। বিছনা থেকে না উঠতেই আমার ওপর টিন আছড়ে পড়ে। পরে দেখি আমার শোয়ার চৌকি ছাড়া আর কিছুই ঘরে নেই। সব বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। এ সময় আমিসহ আমার স্ত্রী আহত হই।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ইকবাল মিয়া বলেন, ‘সোমবারের ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলায় দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভলাকুট পূর্ব বালিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। আর সদর ইউনিয়নের নাসিরপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও কুন্ডা ইউনিয়নে একটি কিন্ডারগার্টেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

পূর্বভাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আক্তার মিয়া জানান, আমার ইউনিয়নের ভুবন, শ্যামপুর, বেলুয়া ও কিপাতনগর গ্রামের প্রায় ৬০০ হেক্টর ব্রি-২৮ ধান শিলাবৃষ্টিতে একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ একবারে পথে বসে যাবে।

এদিকে ঝড়ে বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়ে ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছেন ভলাকুট গ্রামের বাছির মিয়া ও তার স্ত্রী। ভলাকুট পূর্বপাড়ার প্রবোধ মজুমদার ও তার মা, কান্দি পাড়ার আব্দুল আওয়াল। ভলাকুট হাফিজিয়া মাদ্রার চারজন ছাত্রও আহত হয়েছে। তবে তাদের নাম জানা যায়নি। অপরদিকে সদর ইউনিয়নে সিদ্দিক মিয়া, মিজান মিয়া ও মজনু মিয়া আহত হয় হওয়ার তথ্য জানা গেছে।

নাসিরনগর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ১৪টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। দুই শতাধিক বিদ্যুতের মিটার নষ্ট হয়েছে। ৫০০ ফুট তার ছিড়ে রাস্তার পাশে পড়ে আছে। কবে বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হবে, এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএন) মেহেদি হাসান খান শাওন সমকালকে জানান, নাসিরনগর উপজেলায় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ভলাকুট ও পূর্বভাগ ইউনিয়নে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভরাকুট ইউনিয়নে প্রায় ২৫০ ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। আড়াই হাজার হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতি হয়েছে। পূর্বভাগ ইউনিয়নে প্রায় ৬০০ হেক্টর ফসলি জমি শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হয়। এছাড়াও কয়েকটি সরকারি বিদ্যালয়, সরকারি কলেজ হোস্টেল ও মসজিদ-মাদ্রাসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সব করা হবে।