বিজ্ঞানশিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে কারাগারে পাঠানোর পর শুধু একদিন বিদ্যাপীঠে গিয়েছিল তার একমাত্র ছেলে শ্রেষ্ঠ মণ্ডল। সে সময় কয়েক সহপাঠী তাকে ‘আসামির ছেলে’ বলায় অপমানিত হয়ে ক্লাস শেষ না করেই বাড়ি ফিরে আসে সে। এরপর আর বিদ্যালয়ে যায়নি সে। তার বাবা কারামুক্ত হওয়ায় ১৮ দিন পর সোমবার প্রিয় বিদ্যাপীঠ মুন্সীগঞ্জ সদরের রামগোপালপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়েছে সে।

অনুভূতি জানতে চাইলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রেষ্ঠ মণ্ডল জানায়, দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয়ে এসে অনেক ভালো লেগেছে। এবার সহপাঠীরাও তাকে পেয়ে অনেক খুশি। খুব আনন্দ করেছে। শ্রেষ্ঠ মণ্ডল আরও বলে, ‘কয়েকজন শিক্ষক ক্লাসে এসে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাই আরও বেশি ভালো লাগছে।’

হৃদয় মণ্ডল রোববার কারামুক্ত হয়ে বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের কোয়ার্টারের বাসায় ফিরে যাননি। তিনি মুন্সীগঞ্জ কারাগার থেকেই চিকিৎসার জন্য ঢাকায় চলে যান। ঢাকায় তার স্ত্রীর বড় বোনের বাসায় উঠেছেন। তার প্রেশার ও ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সপ্তাহ ঢাকায় থেকে তিনি মুন্সীগঞ্জে ফিরবেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

শ্রেষ্ঠ মণ্ডলের মামা বাদল হালদার জানিয়েছেন, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক সবুজ বাড়ৈর সঙ্গে সে বাসা থেকে বিদ্যালয়ে যায়। পাঠদান কার্যক্রম শেষে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাসি মুখে বাড়ি ফিরে এসেছে আমার ভাগ্নে। শ্রেষ্ঠ মণ্ডল বাসায় আসার পর আয়া পাঠিয়ে খোঁজ নিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন বলেন, 'হৃদয় মণ্ডলের স্ত্রী ববিতা হালদারের কাছে শুনেছি, শিশু শিক্ষার্থীরা ওকে নিয়ে কটূক্তি করেছিল। এ জন্য এতদিন স্কুলে আসেনি। আমার স্কুলের শিক্ষক সবুজ বাড়ৈকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওকে স্কুলে আনা-নেওয়ার জন্য।' হৃদয় মণ্ডলের ক্লাসে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন। তিনি চাইলেই যে কোনো সময় ক্লাস শুরু করতে পারবেন।

মাউশির তদন্ত কমিটি : সমকাল প্রতিবেদক জানান, হৃদয় মণ্ডল জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর স্কুলের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল হাই তালুকদারকে নিয়ে গঠিত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গত ২২ মার্চ হৃদয় মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।