কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ৮০ ভাগ পুষ্ট হলেই বোরো ধান কেটে ফেলার কথা বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্দেশনায় এরই মধ্যে বিস্তীর্ণ হাওরের ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে তারা দ্রুত ধান কাটা ও মাড়াই করে গোলায় তুলতে পারছেন না। আবার বাজারেও ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না।

কৃষকরা জানান, জেলায় ধানের প্রধান দুই মোকাম করিমগঞ্জের চামড়াঘাট ও ভৈরবের আড়তগুলোতে নতুন ধান আসা শুরু হয়েছে। হাওর উপজেলা ইটনা, অষ্টগ্রাম, নিকলী ও মিঠামইন থেকে এই দুই মোকামে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ ধান আসছে। তবে ধানের দাম অনেক কম। উৎপাদন খরচই উঠছে না তাদের।

এই দুই মোকাম ঘুরে দেখা গেছে, আড়তগুলোতে প্রতি মণ মোটা ধান ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং চিকন ধান ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাকা ও ৯৫ শতাংশ শুকনো ধানের দাম সর্বোচ্চ ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা।

হাওরের কৃষকরা জানান, বন্যার আশঙ্কা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এরই মধ্যে হাওরের আগাম ২৮ ও ২৯ জাতের বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। কিছু কৃষক এই ধান ঘরে রাখছেন। তবে বড় একটি অংশ ঋণের টাকা শোধ করার জন্য ধান বেচতে বাজারে যাচ্ছেন। তবে বাজারে ধানের উপযুক্ত মূল্য না থাকায় তাদের হাতে কিছুই থাকছে না।

ইটনা উপজেলার ধনপুর বাজারের কৃষক পুলিশ মিয়া জানান, কৃষকরা ধানের প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না। প্রতি মণ ধানে যে খরচ হয়েছে বাজারে গিয়ে তাও পাওয়া যাচ্ছে না। এর পরও কোনো কোনো কৃষক বাধ্য হয়ে লোকসানে ধান বিক্রি করছেন। ধান বিক্রেতা লিয়াকত আলী জানান, ৩৫ শতাংশ জমিতে ধান ফলাতে খরচ পড়ে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। আর এই জমিতে ধান উৎপাদন হয় ১৭ থেকে ১৮ মণ। উৎপাদিত ধান বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করলে কিছুই থাকছে না।

অষ্টগ্রাম উপজেলা থেকে ভৈরবে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক জমশেদ মিয়া জানান, হাওরের অধিকাংশ কৃষক মহাজনদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে জমিতে চাষ করেন। ফসল ওঠানোর পর সেই দেনা পরিশোধ করতে তাড়াতাড়ি ধান বিক্রি করতে হয়। তবে বাজারে ধান বিক্রি করে কোনো লাভই থাকছে না। ন্যায্য দামে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার জন্য তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণও করেন।

ইটনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জল সাহা বলেন, হাওরের বেশিরভাগ কৃষকই গরিব। মহাজনি সুদ পরিশোধের চাপ থাকায় বৈশাখ মাসের শুরুতেই তাদের ধান বিক্রি করতে হয়। কয়েকদিন পর ধান বিক্রি করতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যেত।

কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মজিবুর রহমান বেলাল বলেন, বাজারে আসা নতুন ধানের বেশিরভাগই ভেজা। আবার কিছু ধান আধাপাকা। তাই দাম খুবই কম। এসব ধান শুকিয়ে বিক্রি করলে কৃষকরা দাম আরও বেশি পেতেন। তিনি কৃষকদের এখনই বিক্রি না করে ধান শুকিয়ে গুদামজাত করার পরামর্শ দেন। তাতে সরকার নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করতে পারবেন কৃষক।