ইজারাজুলুম ও ইজারাদার কর্তৃক মাছ ব্যবসায়ীদের নির্যাতনের প্রতিবাদে মাছের জেলা হিসেবে খ্যাত কিশোরগঞ্জে চারদিন ধরে মাছ বিক্রি বন্ধ রয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল থেকে উচ্চমূল্যে খাজনা আদায়ের প্রতিবাদে মাছ ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য মাছ বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেন।

এর ফলে কিশোরগঞ্জ শহরের তিনটি বাজারে চারদিন ধরে মাছ বিক্রি বন্ধ রয়েছে। এতে জেলা শহরের হাওরে মিঠাপানির মাছসহ অন্যান্য মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ধর্মঘট থাকার কারণে মাছ আহরণের মোকামগুলো থেকে ব্যবসায়ীরা কিশোরগঞ্জ শহরে মাছ সরবরাহ করতে পারছে না।

মাছ ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছেন, মাছের প্রতি ডালা দৈনিক পাঁচ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও ইজারাদার ২০০ টাকা দাবি করছেন। ১৯৫ গুণ ইজারা দাবি করায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে তারা মাছ বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। ১৪ এপ্রিল এ নিয়ে ইজারাদারের লোকজনের সাথে মাছ ব্যবসায়ীদের তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে ইজারাদারের লোকজন মাছ ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা করে। এতে ৭/৮জন ব্যবসায়ী আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকালে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাছ বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে ১৪ এপ্রিল  থেকেই শহরের বড় বাজার, পুরানথানা ও কাচারী বাজারের তিনটি মাছ মহালেই মাছ বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, বাজারে মাছ না পেয়ে ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে। বিশেষ করে রমজান মাসে ক্রেতাদেরকে সীমাহীন কষ্টভোগ করতে হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ শহর মাছ বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মুকছেদ মিয়া জানান, সমিতির লোকজন শুক্রবার জেলা প্রশাসকের কাছে যান। ডিসি সাহেব মেয়র সাহেবকে বলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু গত তিনদিনেও কিছু হয়নি। তাই সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মাছ বিক্রি বন্ধ থাকবে।

বড়বাজার মাছ মহালের ইজারাদার মো. আরজু মিয়া বলেন, এই মাছ মহালটি ভ্যাটসহ ২৫ লাখ টাকায় তারা ইজারা নিয়েছেন। ১ বৈশাখ থেকে টোল আদায় করার কথা। সে অনুযায়ী টোল তুলতে গেলে ব্যবসায়ীরা ডালাপ্রতি পাঁচ টাকার বেশি ইজারা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ডালাপ্রতি পাঁচ টাকা করে টোল আদায় করলে বছরে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা আদায় হবে। অথচ ইজারা ডাক হয়েছে ভ্যাটসহ ২৫ লাখ টাকায়। এ নিয়ে তাদের সাথে আমাদের লোকজনের তর্কবিতর্ক হয়। তিনি আরও বলেন, গত বছর  তারাই ইজারা নিয়ে বিনা রশিদে ১৫০/২০০ টাকা আদায় করেছেন। কিন্তু এবার দরপত্রের মাধ্যমে বাজার না পেয়ে তারা মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন বলে তিনি দাবি করেন।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো.পারভেজ মিয়া বলেন, সিডিউল অনুযায়ী যে রেটে টাকা তোলার কথা, সে রেটেই টাকা তুলতে হবে। এ বিষয়ে দুপক্ষকে রোববার পৌরসভা কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে। সেখানেই বিষয়টির মীমাংসা হবে বলে তিনি আশা করছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, মাছ ব্যবসায়ীরা শুক্রবার তার কাছে গিয়ে অভিযোগ করেছেন। তিনি মেয়রকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছেন। নির্ধারিত রেটের বাইরে টাকা নিলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।