বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে সিলেট জেলা বিএনপি। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীসহ দলের নেতাকর্মীদের সন্ধান চেয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে ইলিয়াস আলী, ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, জুনেদ আহমদ ও ইলিয়াস আলীর গাড়িচালক আনসার আলীসহ গুম হওয়া সব নেতাকর্মীকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।

এদিকে বিকেলে পৃথক আলোচনা সভায় ইলিয়াস আলীকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সিলেট মহানগর বিএনপি। দুপুরে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও সরকার আজও তাদের সন্ধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ গুম হওয়ার পর সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ইলিয়াস আলীকে অক্ষত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি তারা রক্ষা করেনি। একজন নাগরিক গুম হওয়ার দায় সরকার এড়াতে পারে না। নিখোঁজদের অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে।

একই সময় জেলার সব উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে নিজ নিজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বৃহত্তর সিলেটের জনপ্রিয় নেতা গুমের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়া সত্যিই দুঃখজনক। দেশের যেকোনো নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান করার দায়িত্ব সরকারের। গুম হলেও তাকে খুঁজে বের করার দায়িত্বও সরকারের উপর বর্তায়।

সরকারকে অভিযুক্ত করে কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তাদের উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় আমরা মনে করি গুম হওয়া সবাই সরকারের হেফাজতে রয়েছেন। এদিকে বাদ জোহর হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মসজিদে জেলা বিএনপির উদ্যোগে ইলিয়াস আলীসহ নেতাকর্মীদের জন্য মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। এ সময় সব নেতাকর্মীর সন্ধান কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এছাড়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মাগফিরাত কামনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং দেশ-জাতির মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল গাফফার, অ্যাডভোকেট আশিক উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, সাবেক সহ-সভাপতি শেখ মকন মিয়া, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ প্রমুখ।

রোববার বিকেলে নগরীর জিন্দাবাজারের ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) হলরুমে ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে মহানগর বিএনপি। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালি পংকির সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকীর পরিচালনায় সভায় বক্তারা বলেন, সিলেটকে নেতাশূন্য করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে সরকার। একইভাবে সিলেটের সাবেক ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, জুনেদ আহমদ ও ইলিয়াস আলীর গাড়িচালক আলীকেও গুম করা হয়েছে।

এদিকে ইলিয়াস আলীর সন্ধান দাবিতে দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ও ইলিয়াস মুক্তি যুব-ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামালের সভাপতিত্বে ও মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছদরুল ইসলাম লোকমানের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তৃতা দেন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক শেখ মকন মিয়া চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মইনুল হক, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহিদ সোহেল, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুমিনুল ইসলাম মুমিন, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানীর বনানী থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী।