ফেনীর সাবেক ক্রিকেটার কাউসার আলম তৈমুর চৌধুরী (৪৫) গরম পানিতে ঝলসে মারা গেছেন। এ ঘটনায় মৃত্যুর আগে স্ত্রী রূপা চৌধুরীকে দায়ী করে গেছেন তিনি।

রোববার সকালে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিটে তৈমুরের মৃত্যু হয়। রূপা চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহতের ছোট ভাই তানজুর চৌধুরী বাবু জানান, গত ১১ এপ্রিল ভোরে তৈমুর চৌধুরী তার বাসায় ঘুমাচ্ছিলেন। ওই সময় তার শরীরে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয়। এতে তার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে যায়। প্রথমে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল, পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার ছয় দিন পর তিনি মারা যান।

তৈমুর ফেনী শহরের শহীদ সেলিনা পারভীন সড়কের (নাজির রোড) বাড়িতে স্ত্রী, সন্তানসহ বসবাস করতেন। আবু তৈয়ব চৌধুরীর ছেলে তৈমুর ফেনীর ফ্রেন্ডশিপ ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিভাবান সাবেক খেলোয়াড় ছিলেন। তার মৃত্যুতে ফেনীর ক্রিকেট অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গ্রেপ্তার রূপাকে রোববার দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজ উদ্দিনের আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান।

স্থানীয় লোকজন জানান, তৈমুর ও তার স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতে দেখেছেন। ঝগড়া কখনও এমন উত্তপ্ত ছিল না, যার কারণে হত্যার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

রূপা আদালতে দাবি করেছেন, তাকে ফাঁসাতে অন্য কেউ এ চক্রান্ত করছে। সেদিন সেহরি খেয়ে তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। এর পর স্বামীর চিৎকার শুনে তিনিও জেগে ওঠেন। তৈমুরের গায়ে কীভাবে গরম পানি পড়েছে, তিনি দেখেননি।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন জানান, তৈমুর হত্যায় স্ত্রীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে।