কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী সীমান্ত সংঘর্ষের ২১তম বর্ষপূর্তি দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টার দিকে বড়াইবাড়ী বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে এই দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুহুল আমিন, বিশেষ অতিথি রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্লাহ, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার স্মৃতি, বিজিবির জামালপুর ৩৫ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক সামছুল হক, বড়াইবাড়ী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মনির হোসেন, যাদুরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সবুজ, শৌলমারী ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিল, চরশৌলমারী ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান একেএম ফজলুল হক মন্ডল, রৌমারী সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মজিবর রহমান, রাজীবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মশিউর রহমান রতন, রাজীবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক মোকলেছুর রহমান, রাজীবপুর উপজেলা জাতীয় পার্টি (জেপি) সভাপতি আব্দুর রশিদ, স্থানীয় সাংবাদিক এসএম সাদিক হোসেন, শওকত আলী মণ্ডলসহ শহীদ ও এলাকাবাসী।

আলোচনা সভায় বক্তারা দ্রুত বড়াইবাড়ী দিবসটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতির জোর দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল ভোররাতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বিএসএফ বাংলাদেশি সীমান্তে অনাধিকার প্রবেশ করে বড়াইবাড়ী গ্রামের ঘুমন্ত মানুষের উপর হামলা চালায় ও বাড়িঘর নির্বিচারে জ্বালিয়ে দেয়। ওই দিন হামলার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছিল বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) এবং স্থানীয় জনতা। যৌথ সেই প্রতিরোধে বিএসএফের ১৬ জোয়ান নিহত হন। ওই ঘটনায় শহীদ হয়েছিলেন বিডিয়ারের ৩৩ রাইফেলস্ ব্যাটালিয়নের ল্যান্স নায়েক ওহিদুজ্জামান, সিপাহী মাহফুজার রহমান এবং ২৬ রাইফেলস্ ব্যাটালিয়নের সিপাহী আব্দুল কাদের। এছাড়া আহত হন হাবিলদার আব্দুল গনি, নায়েক নজরুল ইসলাম, ল্যান্স নায়েক আবু বকর সিদ্দিক, সিপাহি হাবিবুর রহমান ও সিপাহি জাহিদুর নবী। এছাড়াও বিএসএফের তাণ্ডবে ওই ঘটনায় পুড়ে ছাই হয়েছিল বড়াইবাড়ী গ্রামের ৮৯টি বাড়ি। সরকারি হিসেবে মোট ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৭২ লাখ টাকা।