চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে করে জেলায় আমসহ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার সন্ধ্যায় ঝোড়ো হাওয়াসহ শিলাবৃষ্টি স্থায়ী হয় ১০ মিনিট।

এ দিন জেলা শহরের কিছু জায়গায় এবং শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট, চককীর্ত্তি, শ্যামপুর, মনাকষা, দলর্ভপুর, চৌডালা, বিনোদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বজ্রপাতও ছিল।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, প্রাথমিকভাবে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং সদর উপজেলার ২৯৫ হেক্টর আমবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব বাগানের ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ জানতে ২ দিন সময় লাগতে পারে। কৃষি বিভাগ আরও জানায়, শিলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও জেলায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় আম সহ অন্যান্য ফসল খরার প্রকোপ থেকে বাঁচবে।

জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্ত্তির আমচাষী জাহাঙ্গির বিশ্বাস বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি হয়। ক্ষণস্থায়ী এ শিলাবৃষ্টিতে ছোট আমের গুটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’

শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিডেটের সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল খান শামীম বলেন, ‘শিলায় আমের ক্ষতি হলেও বৃষ্টিটি খুব প্রয়োজন ছিল। চলমান খরার কারণে আমের গুটিগুলো শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে সার্বিকভাবে ভাল হলেও শিলার কারণে আমের গুটি ঝরে গেছে।’

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, শিলাবৃষ্টিতে ধান ও আমের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ এখনই বলা যাচ্ছে না। ক্ষতির পরিমাণ জানতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

তিনি আরও জানান, জেলার ১৫ হাজার ৫০০ কৃষকের সদর উপজেলায় ২৯৫ হেক্টর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর আমবাগান ক্ষতিগ্রস্ত। আমের পাশাপাশি জেলার এ ২ উপজেলার মধ্যে শিবগঞ্জে ৭ হাজার কৃষকের ৬ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমির বোরো ধান, বিভিন্ন ধরনের সবজি এবং ভুট্টা আক্রান্ত হয়েছে। পাশাপাশি সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৬৩৫ কৃষকের ৯০১ হেক্টর জমির বোরো ধান, বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ভুট্টা ও লিচুর গাছ আক্রান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি জেলার বাইরে আছি। ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষনিক জানানো সম্ভব নয়। তবে আমের গুটিগুলো এখনও বড় না হওয়ায় আমের ক্ষতি তেমন একটা হবে না। পক্ষান্তরে প্রচণ্ড তাপদহের মধ্যে সামান্য বৃষ্টি আম ও ফসলের জন্য মঙ্গল হবে।’