দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় শহিদুল ইসলাম (৬১) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দাদপুর (বুড়াবন্দর) এলাকার হাসকিং মিলের বারান্দায় ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহের পাশ থেকে রক্তমাখা একটি ছুরি ও জমিসংক্রান্ত মামলার নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।

নিহত শহিদুল উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাসুদেবপুর নয়াপাড়া গ্রামের প্রয়াত আশরাফ মণ্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন।

মিলের পাহারাদার কানু মোহন্ত বলেন, গত দেড় মাস থেকে মিলটি বন্ধ। রোববার রাতে মিলের পেছনের ঘরের বারান্দায় এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মিল মালিক আফতার আলীসহ স্থানীয়দের জানান।

হাসকিং মিল মালিক আফতার আলী বলেন, ঘটনাটি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে শহিদুল ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে নিহতের পরিবার ও থানা পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জমিজমার মালিকানা নিয়ে স্থানীয় হামিদুল ইসলামের সঙ্গে শহিদুল ইসলামের মামলা চলছে। গত রোববার ওই মামলার শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। সকাল ৯ টার দিকে দিনাজপুর আদালতে যাওয়ার জন্য মামলার নথিপত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। কিন্তু সন্ধ্যার পরও তিনি বাড়ি না ফেরায় মুঠোফোনে তাদের আইনজীবীর কাছে অবস্থান জানতে চান। তখন আইনজীবী জানান, বিকেলের আগেই শহিদুল দিনাজপুর থেকে চলে গেছেন।

এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার ভোরে হাসকিং মিল থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের স্ত্রী কাওছারা বেগম অভিযোগ করেন, জমিজমার বিরোধের জেরেই প্রতিপক্ষরা তার স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ মিলঘরের বারান্দায় ঝুলিয়ে রাখেন। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

শহিদুল ইসলামের ছেলে কামরুজ্জামান ও মেয়ে নূরী আক্তারের অভিযোগ, জমিজমার বিরোধের ফলেই প্রতিপক্ষ তাদের বাবাকে হত্যা করেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে জমিসংক্রান্ত মামলার প্রতিপক্ষ হামিদুল ইসলাম বলেন, তাকে জড়িয়ে যে অভিযোগ করছেন নিহতের পরিবার, তা পুরোপুরি মিথ্যা। তিনিও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ সময় মরদেহের পাশে পড়ে থাকা রক্তমাখা একটি ছুরি ও জমিজমা সংক্রান্ত মামলার নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি মো. আশ্রাফুল ইসলাম আরও বলেন, হত্যাকারীদের শনাক্তে পুলিশের ঊর্ধ্বতন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসছেন। মামলার প্রস্তুতি চলছে।