পটুয়াখালীতে পাওয়া যাচ্ছে এক টাকায় ইফতার। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে শহরের খেটে খাওয়া ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের জন্য এই ব্যতিক্রমী ইফতারের আয়োজন করেছে ‘পটুয়াখালীবাসী’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। 

রোববার থেকে খেটে খাওয়া ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের জন্য এক টাকায় এ ইফতারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রথমদিন শহরের আদালত পাড়াস্থ বড় জামে মসজিদ এলাকায় এবং সোমবার দ্বিতীয় দিনে শহরের শহীদ আলাউদ্দিন শিশুপার্ক চত্বরে এক টাকায় ইফতারের বিক্রয় কেন্দ্র বসে। প্রতি দিন দুই শতাধিক দিনমজুর, রিকশাচালক, অটোবাইকচালক, ভ্যানচালক, ঠেলাগাড়ি চালকসহ নিম্ন আয়ের ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষজন এখান থেকে এক টাকায় ইফতার কেনেন।

আয়োজকরা জানায়, এখানে সাত ধরনের ইফতার আইটেম পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে ছোলা বুট, পিঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি, খেজুর, মুড়ি ও পানির বোতল। প্রতিটি খাবার (আইটেম) এক টাকা। যার যার পছন্দ ও সাধ্য অনুযায়ী এক টাকা দিয়ে এক একটি খাবার কিনছেন। বিত্তবান ব্যক্তিদের সহযোগিতা পেলে এই এক টাকায় ইফতার কার্যক্রম ৩০ রমজান পর্যন্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

এক টাকায় ইফতার পেয়ে খুশি গৃহপরিচারিকা সূর্যবানু। তিনি বলেন, ‘মুই যেই বাসায় কামকাইজ করি তাগো জন্য অনেক ইফতার বানাইয়া দেই। তয় মোর পোলাডার লইগ্যা কিছুই নিয়া যাইতে পারি না। কষ্ট হয় এই রোজাকালের দিনেও ভালা-মন্দ দিয়া ইফতার করতে পারি না। এই এক টাকায় ইফতারের কথা হুইন্যা খুশিতে মনডা ভইরা গেছে। এই দুইদিন পোলাডার লইগ্যা এক টাকা করে পিঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি, ছোলা বুটসহ যা যা পছন্দ তাহাই নিতে পারি। খুব ভালা লাগছে। মোগো মতো গরিবগো অনেক উপকার হইছে।’

দিনমজুর জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘হারাদিন খাইট্টা ভাল কইরা ইফতারও করতে পারি না। অল্প টাকায় ভালো ইফতার পাওয়াও যায় না। এহোন এক টাকার ইফতার পেয়ে খুশি, উপকার হইছে। এক টেহা করে সাত টেহায় সাতটা আইটেম দিয়া ইফতারি করতে পারি। যা কিনতে মোগো লাগতো ৬০ থেকে ৭০ টাকা।’        

এ আয়োজনের উদ্যোক্তা ও পটুয়াখালীবাসী সংগঠনের সভাপতি মো. মাহমুদ হাসান রায়হান জানান, বর্তমানে বাজারে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দিয়ে একটি ইফতারের প্যাকেট কিনতে হয়। যা আমাদের এই সমাজের খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। ওইসব মানুষের কষ্ট ও দুর্দশার কথা বিবেচনা করে রোববার থেকে পটুয়াখালীবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে এক টাকায় ইফতার বিক্রির এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের ইচ্ছা ও প্রত্যাশা ৩০ রমজান পর্যন্ত এ আয়োজন অব্যাহত রাখার।