রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সরকারি ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, হ্যান্ড গ্লাভসসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম চুরির চেষ্টা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা চোরাই চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে গেছে। এই ঘটনায় সোমবার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

 এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন থেকে একটি বস্তাভর্তি পণ্য নিয়ে পলাশ মিয়া নামে এক যুবককে সন্দেহজনকভাবে বাইরে বের হতে দেখতে পেয়ে তার পিছু নেয় স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন হাফিজিয়া মাদ্রাসার কাছে পৌঁছামাত্র ওই যুবককে ধাওয়া দেন স্থানীয় রুবেল, সজিব ও রাজু নামের তিন যুবক। এ সময় বস্তা ফেলে পালিয়ে যান পলাশ। পরে বস্তা খুলে ক্যানুলা, ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ও হ্যান্ড গ্লাভস উদ্ধার করা হয়। এগুলো ওই তিন যুবকের জিম্মায়-ই রাখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর রুম থেকে কিভাবে এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম বাইরে গেলো- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। 

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাশকে এসব চিকিৎসা সরঞ্জামাদি দিয়েছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী (ধুপি) রঙ্গবালা। স্টোর কিপার আবদুল মুহিত চিকিৎসা সরঞ্জামগুলো রঙ্গবালাকে সরবরাহ করেছেন। এভাবে তাদের সহযোগিতায় চুরি হয়ে যাচ্ছিল সেগুলো। 

এই ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াহেদুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আশিকুর রহমান ও ডা. মেসবাহ আহম্মেদ। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। 

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাপারে স্টোর কিপার আবদুল মুহিত বলেন, ‘কিভাবে বাইরে গেল, বলতে পারছি না। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’

আর পরিচ্ছন্নতাকর্মী রঙ্গবালা বলেন, ‘আমি ৪ কার্টন সিরিঞ্জ বের করেছি। কোনো বেতন পাই না। তাই এগুলো নিয়েছি। কিছু সিরিঞ্জ পরিত্যক্ত ছিল।’ 

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত পলাশ পলাতক রয়েছেন। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় রুবেল, রাজু ও সজিব বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি- সরকারি মালামাল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। পরে ধাওয়া করে পলাশকে আটকের চেষ্টা করি। সে পালিয়ে যায়। বস্তায় ছিল ক্যানুলা, গ্লাভস, স্যালাইন সেট, সিরিঞ্জ। এগুলো আমরা সংরক্ষণে রেখেছি।’

তদন্ত কমিটির প্রধান ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, ‘কিভাবে চুরির ঘটনা ঘটলো, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত চলছে। কারা জড়িত তা বের করে যথা সময়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেবুল ইসলাম বলেন, ঘটনার মূল শিকড় বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে অভিযুক্ত চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’