ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তার স্বামী  ফয়সাল আহমেদকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে পজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের কদমতলী গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সোমবার দুপুরে ওই গৃহবধূর মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মারা যাওয়া ওই গৃহবধূর নাম খাদিজা আক্তার। তিনি উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবু মিয়ার মেয়ে এবং একই গ্রামের খায়ের মিয়ার ছেলে  ফয়সাল মিয়ার স্ত্রী। তিনি স্বামীর সঙ্গে ঢাকার দক্ষিণ পীরেরবাগ এলাকায় বসবাস করতেন।

মামলা সূত্রে  জানা গেছে, ছয় মাস আগে খাদিজা আক্তারের সঙ্গে ফয়সাল মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল খাদিজাকে। গত জানুয়ারি মাসে যৌতুক হিসেবে ছেলের পরিবারকে এক লাখ টাকা দেয় মেয়ের পরিবার। তারপরও তারা আরও যৌতুকের জন্য খাদিজাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। গত ১৬ এপ্রিল ফয়সালের মা ময়না বেগম খাদিজার বাবার বাড়ি কদমতলীতে এসে যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দেয়। টাকা না দিলে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও হুমকি দেয়। পরদিন রাতে খাদিজা আত্মহত্যা করেছেন বলে তার বাড়িতে খবর দেয়া হয় । পরে খাদিজার পরিবারের লোকজন ফয়সালদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ওই গৃহবধূর মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি দেখতে পান। এ সময় খাদিজার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হলে রাত এগারোটার দিকে তারা বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় খবর দেন। পরে থানা থেকে একদল পুলিশ এসে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়।

খাদিজার মা ফাতেমা বেগম জানান, মেয়ের আত্মহত্যার খবর পেয়ে তার শ্বশুর বাড়িতে গেলে তাদের কথাবার্তায় সন্দেহ হয়। পরে মেয়ের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে তারা থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় খাদিজার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির নামে মামলা দায়ের করেন।

ফাতেমা বেগম আরও জানান, তার মেয়ে ভালোবেসে পরিবারের অমতে তার ফুফাতো ভাই ফয়সালকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে ঢাকার দক্ষিণ পীরেরবাগে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিল খাদিজা। তিনি আরও জানান, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য খাদিজাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ কারণে গত জানুয়ারি মাসে তারা মেয়ের শ্বশুরবাড়ির দাবি করা এক লাখ টাকা দেন। কিন্তু তারপরও তারা আরও টাকার জন্য খাদিজাকে চাপ দিচ্ছিল।

তার দাবি, যৌতুকের টাকার জন্য খাদিজাকে হত্যা করা হয়েছে । তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচারও দাবি করেন।

মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক শ্রীধাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যৌতুকের জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত গৃহবধূর স্বামী ফয়সালকে তার গ্রামের বাড়ি বাঞ্ছারামপুরের কদমতলী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রাজু আহমেদ জানান, কদমতলী গ্রামের এক মেয়ে ঢাকায় মারা গেছেন, তাকে দাফন করতে নিয়ে আসলে তার বাবার বাড়ির লোকজন তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পেয়ে থানায় খবর দেয়। পরে তারা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ঢাকা মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।