লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও নিখোঁজ গৃহবধূ মোহনাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। 

এ ঘটনায় গৃহবধূর মা কামরুন নাহার বাদী হয়ে মোহনার স্বামী আবদুর রহমান, শ্বশুর আবুল খায়ের, শাশুড়ি রোকেয়া বেগম ও খালাতো দেবর ফয়সালসহ চারজনকে আসামি করে রামগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

অভিযোগের খবর পেয়ে একই দিনে মোহনার শাশুড়ি রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চার নম্বর ইছাপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়ির মৃত মিজানুর রহমানের একমাত্র মেয়ে মোহনার সঙ্গে একই ইউপির সান্দানপুর গ্রামের মসজিদ বাড়ির আবুল খায়েরের প্রবাসী ছেলে আবদুর রহমানের পারিবারিকভাবে ৫ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে ৪ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য মোহনার ওপর মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে মোহনা  নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শিবপুর বাবার বাড়িতে চলে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ এপ্রিল রাতে মোহনার স্বামী মালয়েশিয়া থেকে ফোন করে স্ত্রী মোহনাকে সান্দানপুর স্বামীর বাড়ি চলে যেতে বলে। যদি না যায় তাহলে তাকে তালাকের হুমকি দেওয়া হয়। মোহনা সে দিন বিকেলে সান্দানপুর চলে যায়। পরে রাতে মোহনা খাওয়া শেষে নিজের রুমে যায় ঘুমাতে। এর পর থেকেই তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে গৃহবধূ মোহনার মা কামরুন নাহার জানান, জামাই আবদুর রহমান বিদেশ থেকে ফোনে জোরপূর্বক আমার মেয়েকে সান্দানপুর যেতে বলেছে। রাত ৯টায় মেয়ে আমাকে ফোন দিয়ে বলে ভাত খাওয়ার পর থেকে পেটে প্রচন্ড ব্যাথা করতেছে। এই বলে ফোন কেটে দেয়। পরে তার শাশুড়ি রোকেয়া ভোররাতে ফোন দিয়ে বলে মোহনাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

গৃহবধূ মোহনার শাশুড়ি রোকেয়া বেগম জানান, রাতের খাবার শেষে ঘুমানোর পর আমরা তাকে খুঁজে পাচ্ছি না। তাকে না পেয়ে আমরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।