নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সোনারগাঁয়ের বারদি বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের দু'পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত হয়েছিলেন বৃদ্ধ করিম সরকার। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবস্থার অবনতি হলে বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। করিম সরকার বারদি সেনপাড়া গ্রামের প্রয়াত ইছমত সরকারের ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনকেন্দ্রিক ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহিরুল হক ও নাজমুল হক পক্ষের সঙ্গে জাকির সরকার ও ইব্রাহিম ইবু পক্ষের বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে গত বুধবার সকালে জহিরুল হক ও নাজমুল পক্ষের সমর্থিত তাজুল ইসলাম প্রতিপক্ষ জাকির পক্ষের হাসানকে মারধর করে।
এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে জাকির ও ইব্রাহিম ঘটনাস্থলে এসে এ বিষয়ে জানতে চাইলে জহিরুল ও নাজমুলের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়।

পরে উভয় পক্ষের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় এ সংঘর্ষে জাকির পক্ষের জাকির, জাকিরের চাচা আব্দুল করিম, জামাল, মাসুম সরকার, বাসেদ সরকার, মামুন সরকার, সামসুল, হুমায়ুন সরকার, হাসান এবং জহিরুল পক্ষের তাইজুল ইসলাম, হযরত আলীসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঘটনার একদিন পর সোনারগাঁও থানায় উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা করে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, করিম সরকার নামে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। ওই ব্যক্তি সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছিলেন কিনা, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।