নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নে চার বছরের শিশু তাসফিয়া আক্তার জান্নাতকে গুলি করে হত্যা মামলায় চার আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া মামলার প্রধান আসামি ও বাহিনীপ্রধান মো. রিমন নোয়াখালীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তৌহিদুল ইসলাম তার জবানবন্দি নেন। রিমান্ডে পাঠানো আসামিরা হলো- সুজন, সোহেল উদ্দিন, নাইমুল ইসলাম ও আকবর হোসেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

নোয়াখালী ডিবি পুলিশের ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. সবজেল হোসেন পাঁচ আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার আসামিকে পাঁচ দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়ন থেকে র্যানব-১১ তাসফিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি রিমনসহ ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।

গত ১৩ এপ্রিল বিকেলে হাজীপুর গ্রামে বাড়ির পাশে ভাগিনা মামুনের দোকানে শিশুকন্যা তাসফিয়াকে নিয়ে চিপস ও চকলেট কিনতে গিয়েছিলেন প্রবাসী আবু জাহের। মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে সেখানে রিমনের নেতৃত্বে মহিন, আকবর, নাঈমসহ ১৫-২০ জনের একদল সন্ত্রাসী তাদের দিকে গুলি ছোড়ে। শটগানের গুলিতে ওই সময় জাহের ও তার কোলে থাকা শিশু তাসফিয়া গুরুতর আহত হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাসফিয়ার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৪ এপ্রিল দুপুরে তাসফিয়ার খালু রিমনসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।