বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম)  হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক নবজাতক শিশুর স্বজনদের মারধর করে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের কর্মচারী ও আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

শিশু ওয়ার্ডে ইউনিসেফের একটি প্রকল্পের কর্মী মেহেদী হাসান, আনসার সদস্য কালাম মুন্সি ও অভিষেক মজুমদার সহ ৬-৭ জন মিলে নবজাতকের দুই স্বজনকে মারধর ও আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়।  

মারধরের শিকার আশরাফুজ্জামান অভিযোগ করেন, তার ভায়রার-ভাইয়ের নবজাতক সন্তানের  নাভিতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় চিকিৎসকরা পিরোজপুরের  স্বরূপকাঠি উপজেলা থেকে শেবাচিম  হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সে অনুযায়ী শনিবার বিকেল ৩টার দিকে ওই নবজাতককে শেবাচিম হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে  ভর্তি করা হয়। 

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আশরাফুজ্জামান ও তার শ্যালক রাসেল হাওলাদার নবজাতক ওয়ার্ডের সামনে আসেন। এ সময় ওয়ার্ডের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তির কাছে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি চান আশরাফুজ্জামান। অনুমতি চাওয়ার পরই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি চিৎকার-চেঁচাচেঁচি করে তাদের দুজনকে বাইরে বের করে দেন। এরপর আশরাফুজ্জামান ওই ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু ওই ব্যক্তি  তার কোনো কথা না শুনে গালাগাল শুরু করেন এবং একপর্যায়ে আশরাফুজ্জামানকে  মারধর শুরু করেন। 

রাসেল হাওলাদার বলেন, আমার ভগ্নিপতিকে মারধর করার সময় আমি তাতে বাধা দিলে ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা মেহেদী ও আনসার সদস্যরা আমাকেও মারধর করেন। পরে আমাদের দুজনকে তারা  আটকে রাখেন। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিশু বিভাগে কর্মরত ইউনিসেফ প্রকল্পের কর্মী মেহেদী হাসান শনিবার রাতে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নবজাতক ওয়ার্ডের গেটের কাছে আমি দায়িত্ব পালন করছিলাম। তখন ওই দুই ব্যক্তি এসে আমার এবং ওয়ার্ডের পরিচ্চন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। তারা হাসপাতালের স্টাফের গায়ে হাত তোলায় তাদের আটকে রাখা হয়েছিল।

অভিযুক্ত আনসার সদস্য কালাম মুন্সি বলেন, হাসপাতালের স্টাফরা অভিযোগ দিয়েছেন তাদের ওপর হামলা হয়েছে। এ কারণে দুজনকে আটকে রাখা হয়েছিল। 

শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মনিরুজ্জামান শাহিন রাত ১০টায় সমকালকে বলেন, ওই দুই ব্যক্তি জোর করে শিশু ওয়ার্ডে ঢুকতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফদের সঙ্গে কিছু ঝামেলা হয়েছিল। পরে সেটি মিটমাট করে দেওয়া হয়েছে। তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।