মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ সূচনার লক্ষ্যে উপযুক্ত পরিবেশে মায়ের সঙ্গে নিবিড় বন্ধনের জন্য মায়ের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করাকে শিশুবান্ধব অবস্থা বলে। জন্মের পর থেকে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর অবস্থা উন্নয়নে সুরক্ষা, সহায়তা ও প্রচারণার লক্ষ্যে ৩১টি দেশের সরকারি, মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ইতালির ফ্লোরেন্সে ১৯৯০ সালের ১ আগস্ট ইনসেনটি সভা হয় এবং একটি ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশও এই পত্রে স্বাক্ষর করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময়ে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছিল, যা প্রশংসিত হয়েছিল। ফলে এ দেশের শিশুদের ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য এবং যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ধারাবাহিকভাবে এ বিষয়ে উন্নয়নমুখী কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের ফলে বর্তমানে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার  BDHS ২০১৭ অনুযায়ী ৬৫ শতাংশ, যা লক্ষ্যমাত্রার খুবই কাছে।

এসব নানা উদ্যোগের কারণে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ।World Breastfeeding Trends Initiative (WBTI)২০২০ সালের Infant and Young Child Feeding (IYCF) ) বিষয়ে নীতিমালা ও কার্যক্রমের Tracking, Assessing and Monitoring মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ৯৭টি দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ৯১.৫ স্কোর পেয়ে সারাবিশ্বে প্রথম স্থান অধিকার করে গ্রিন জোনে অবস্থান করছে, যা বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে সম্মানিত করেছে। বর্তমানে বেশ কিছু বিষয়কে সামনে রেখে এই উদ্যোগকে আরও জোরদার করেছে- তার মধ্যে অন্যতম শিশুবান্ধব হাসপাতাল, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুকে সফলভাবে মায়ের দুধ খাওয়ানোর ১০টি ধাপ/পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাসপাতালকে শিশুবান্ধব হাসপাতালে রূপান্তরিত করা।

৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং ৬ মাস বয়সের পর থেকে ঘরে তৈরি পরিপূরক খাবার খাওয়ানো নিশ্চিত করা ইত্যাদি। এ বিষয়ে জাতীয় পুষ্টিসেবার লাইন ডিরেক্টর ডা. এসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিশুবান্ধব হাসপাতাল বাস্তবায়ন কর্মসূচি সরকারের একটি বিশেষ কার্যক্রম। এ কার্যক্রমে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বর্তমানে আমাদের দেশে ব্রেস্ট ফিডিংয়ের হার ৬৫ শতাংশের ওপর। প্রোগ্রামের উপব্যবস্থাপক ডা. নন্দলাল সূত্রধর বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শিশু এবং অন্তঃসত্ত্বা মায়ের পুষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সরকারের স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অর্জন বাস্তবায়নে নবজাতক, শিশু এবং অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের খাদ্যাভ্যাসের পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষ কর্মসূচি পালন এবং প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।