সীমিত সামর্থ্য নিয়েই সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন শেরপুরের মোমিনুল তুষার ও আনোয়ার হোসেন। এই দুই বন্ধুর সঙ্গে পরবর্তী সময়ে যুক্ত হন স্থানীয় একদল তরুণ। তারা গড়ে তোলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'উদ্যোগ'। ২০২১ সালে করোনার দ্বিতীয় আঘাতের ভয়াবহতা কাটানো ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা দিয়েই তাদের কার্যক্রম শুরু। সেই সঙ্গে মাস্কও বিতরণ করে 'উদ্যোগ'। তবে তারা খুব কাছ থেকেই দেখেন মানুষের খাদ্য সংকট। এরপর উদ্যোগ নেন খাদ্য সহায়তা প্রদানের।

নিজেদের জমানো আর ধার করা টাকায় খাবার কিনে তা রান্না করে ছিন্নমূল মানুষের মুখে তুলে দেন উদ্যোগের স্বেচ্ছাসেবীরা। পরে 'উদ্যোগ' ফান্ড থেকে পর্যায়ক্রমে প্রায় ২০০ পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। শুরুর কথা জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, 'অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মতো আমাদের শুরুটাও খুব ভালো ছিল না। নিজেদের জমানো-ধার করা টাকায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়েছি। তবে দিন দিন আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন অনেকেই। আসলে উদ্যোগের স্বেচ্ছাসেবকরা বিশ্বাস করে অন্যের সংকটকে বড় করে দেখলেই কেবল নিঃস্বার্থ কাজ করা যায়।' খাদ্য সহায়তা করার মধ্য দিয়ে সংগঠনটির কাজের পরিধি বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে বেড়েছে সংগঠনের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীর সংখ্যা।

সদস্যদের মাসিক চাঁদা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুদান থেকেই উদ্যোগ এখন তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গৃহহীন পরিবারের মাঝে নতুন ঘর তৈরি করে দিয়েছে সংগঠনটি। গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা দিতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং গরিব রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে খাবার ওষুধ বিতরণ করে আসছে। মুমূর্ষু রোগীর জরুরি রক্তের প্রয়োজনে উদ্যোগ গড়ে তুলেছে একটি ব্লাড বাংক। পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করছেন উদ্যোগের স্বেচ্ছাসেবকরা। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শিক্ষার্থীদের মাঝে চিত্রাঙ্কন ও সাধারণ জ্ঞানের প্রতিযোগিতার আয়োজন করার মাধ্যমে সংগঠনটি মুক্তিযুদ্ধ ও দেশকে জানার বিশেষ কর্মসূচি পালন করে।

অসহায় ও গরিব পরিবারের ঝরেপড়া শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংগঠনটি মাসিক অনুদান দিয়ে যাচ্ছে। আগামীর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে উদ্যোগের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোমিনুল তুষার বলেন, 'শিশুশ্রমিক ও পথশিশুদের জন্য সাপ্তাহিক পাঠদান কার্যক্রমের পরিকল্পনাসহ আরও বেশ কিছু নতুন কার্যক্রম হাতে নিতে যাচ্ছি আমরা। আসলে সমাজে নিজের চেয়ে খারাপ অবস্থায় যারা আছে তাদের জন্য সামান্য কিছু করতে পারলেও ভালো লাগে। মাঝেমধ্যে সংকটেও পড়তে হয়। তবে অন্যের ভালো করতে গিয়ে

সংকটে পড়লেও সেই সংকট হয় মধুর। এই মধুর সংকটকে সম্বল করেই উদ্যোগের স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করে যাচ্ছেন।'