ঈদে বাড়ি ফেরা নিয়ে দুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টায় চলাচল করছে মাত্র চারটি ফেরি। যেখানে আগে চলত পাঁচটি রো রোসহ ১৮টি ফেরি। নদীতে স্রোতের কারণে ফেরির সংখ্যা কমিয়ে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ।

রাতে এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বরিশাল, খুলনা, গোপালগঞ্জ, নড়াইলসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কি.মি. বেশি অতিক্রম করে এবং বাড়তি ভাড়া গুনে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া হয়ে ঢাকা যাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ে ঘাটে এসে পৌঁছাতে না পারলে বিকেলের পরে যানবাহন ঘুরিয়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া হয়ে ঢাকা পৌঁছাতে হয়। সন্ধ্যার পর বিপাকে পড়তে হয় অ্যাম্বুলেন্সগুলোর। এই দুর্ভোগ এখন যেন প্রতিদিনের সঙ্গী। লঞ্চ ও সি-বোট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বেপারী পরিবহনের মালিক ডাবলু বেপারী জানান, এখন রমজানের শেষ পর্যায় চলছে। কয়েকদিন পরেই যাত্রীদের ঢল নামতে শুরু করবে।
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার গার্মেন্ট ব্যবসায়ী শহিদুজ্জামান জানান, প্রতি বছর রমজানে গার্মেন্ট পণ্য ঢাকা থেকে নৈশকোচে এনে বানারীপাড়া পৌঁছাতে হতো। রাতে এই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে তার মতো শত শত ব্যবসায়ীকে। দিনে এই রুটে চলাচল করেও দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

বরিশাল থেকে আসা সুগন্ধা পরিবহনের চালক কামরুল ইসলাম জানান, এই নৌরুটে রাতে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় ৮০ থেকে ৯০ কি.মি. বেশি অতিক্রম করে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া হয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে হয়। প্রতিটি দূরপাল্লার পরিবহনের ৪০ লিটার বেশি তেল খরচ হয়। এ ছাড়া তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় বেশি লাগে। সারাদিন রোজা রেখে যাত্রীরা হয়ে ওঠে অতিষ্ঠ।

ইমাদ পরিবহনের চালক ফজলুর রহমান জানান, রমজানের মধ্যে দুর্ভোগের শেষ নেই। মাসের পর মাস বাড়তি জ্বালানি খরচ করে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া হয়ে ঢাকা যেতে হচ্ছে।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বনগ্রামের বিলকিছ আক্তার বলেন, 'অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঢাকা যাচ্ছি। সকাল ৯টায় ঘাটে এসে পৌঁছেছি। সাড়ে তিন ঘণ্টা বসে থাকার পর ফেরি পেয়েছি, গাড়িতে অক্সিজেন না থাকলে মাকে পথেই হারাতে হতো।' বিলকিছের মতো আরও অনেকে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা সমকালকে জানান। তাদের আশঙ্কা, ঈদে এই দুর্ভোগ ব্যাপক মাত্রায় বাড়বে।

রোকেয়া ফেরির মাস্টার মিঠু দাস জানান, দিনে অনেক সতর্কতা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। রাতে চলাচল কোনোমতেই সম্ভব নয়; কারণ পদ্মা সেতু এলাকায় মাঝেমধ্যেই স্রোতের গতি বাড়ে।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের মেরিন ম্যানেজার আলীমুজ্জামান জানান, পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাতে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দিনে ফেরি কম রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া কোনোমতেই ফেরি বাড়ানো সম্ভব নয়।