দেবিদ্বারে বিটিসিএলের সেবা না পেলেও প্রতি মাসেই বিল গুণতে হচ্ছে গ্রাহকদের। অচল সংযোগ মেরামতের জন্য এলাকায় থাকেন না লাইনম্যান। দীর্ঘদিন সেবা না পাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে চান অনেক গ্রাহক।

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) দেবিদ্বার অফিসে কাগজ-কলমে চারজন স্টাফ রয়েছে। সহকারী ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান, লাইনম্যান মোস্তফা কালাম ও জাহাঙ্গীর আলম এবং অফিস সহকারী হাসিনা বেগম। তাদের মধ্যে কেবল নিয়মিত অফিসে থাকেন হাসিনা বেগম। মোস্তফা কালাম থাকেন বুড়িচং ও জাহাঙ্গীর আলম থাকেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়। গ্রাহকদের অভিযোগ পেলে দেবিদ্বারে কাজ করতে আসেন তারা। আর সহকারী ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান ১০টি উপজেলার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন। থাকেন বরুড়া উপজেলায়।

জানা গেছে, বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ডের (বিটিটিবি) দেবিদ্বার কার্যালয় ২০০৬ সালে চালু হয়। পৌর এলাকার গুনাইঘর নতুন ভবনে এটি। এই শাখায় ৫১২টি সংযোগ দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও তখন গ্রাহকসংখ্যা ছিল মাত্র ২০০। বর্তমানে সংযোগ রয়েছে ৮৩টির মতো। এর মধ্যে মাত্র ২০টি লইন সচল। বাকি ৬৩টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও অচল। তবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ১৭৩ টাকা বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল হাকিম লিটন বলেন, দেবিদ্বারে যোগদানের পরেই দেখেন তার অফিসের টেলিফোনের লাইন অচল। বিষয়টি বিটিসিএল অফিসে জানালেও সমাধান মেলেনি। টেলিফোন ব্যবহার না করেও প্রতি মাসে বিল দিতে হচ্ছে।

দেবিদ্বার ছোট আলমপুর ভাই ভাই ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী মাহমুদুল হাসানের ভাষ্য, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টেলিফোন লাইন অচল, কিন্তু প্রতি মাসেই বিল আসছে। সর্বনিম্ন বিল পরিশোধও করতে হচ্ছে। সরকারি বিল কী আর করার, লাইন না থাকলেও বাধ্য হয়েই পরিশোধ করতে হচ্ছে। টেলিফোন অফিসে বারবার বলার পরেও কোনো সমাধান হচ্ছে না।

দেবিদ্বার উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের অভিযোগ, অফিসের টেলিফোন সংযোগ কয়েক দিন পরপর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই টেলিফোন সংযোগ নিয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে তার। মন্ত্রণালয়সহ

বিভিন্ন দপ্তরে এই নম্বর দেওয়া আছে। অনেকেই ফোন করে পান না। তিনি বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে আমার টেবিলে শোপিসের মতো রয়েছে টেলিফোনটি। প্রতি মাসে বিল আসে কিন্তু এক মিনিটও কথা বলতে পারি না। লাইনম্যানকে দিয়ে দু'বার ঠিক করেছি, এখন বলে সেট নষ্ট, পরিবর্তন করতে হবে।'

লাইনম্যান জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, গ্রাহকের অভিযোগ পেলে কাজ করে দেন তারা। অফিসে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি অফিসে আসব নাকি আসব না আপনি বলার কে? আমি বাইরে কাজ করি। আমাকে অফিসে পাবেন কেমনে?'

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক উন নবী তালুকদার বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না আমার। তবে সরকারি দপ্তরের টেলিফোন লাইন সংযোগ না থাকাটা একটি বড় সমস্যা। বিটিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।