ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে এসে শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে স্বামী ও শিশুসন্তানকে বিষ খাওয়ানোর পর নিজেও বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মনছুরা খাতুন (৩০) নামের এক গৃহবধূ।

খাদ্যের সঙ্গে মেশানো বিষক্রিয়ার মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে মারা যায় তার চার বছরের শিশুসন্তান মারুফ হোসেন। বর্তমানে স্বামী আব্দুল মমিন ও স্ত্রী মনছুরা খাতুন অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মনছুরা বেগম পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের রাউৎকান্দি গ্রামের আব্দুল মমিনের স্ত্রী। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের রাউৎকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে আসে আব্দুল মমিন, স্ত্রী মনছুরা ও তাদের চার বছরের শিশুসন্তান মারুফ। শাশুড়ির সঙ্গে মনছুরার ঝগড়া বাঁধে। এরই জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গৃহবধূ মনছুরা খাতুন সবার অগোচরে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে স্বামী-সন্তানকে খাওয়ানোর পর তিনি নিজেও খায়।

একপর্যায়ে বিষক্রিয়ার একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় মনছুরার শাশুড়ির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে প্রথমে তাদের ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ভাঙ্গুড়া হাসপাতালে বিষক্রিয়ার অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু মারুফ। স্বামী-স্ত্রী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী ঢাকায় কাজ করেন। ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে এসেছিলেন তারা। শিশুটি মারা গেছে। শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। স্বামী-স্ত্রী ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।