দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে পরিবার ও আপনজনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে রাজধানী ছেড়ে গ্রামে ছুটছে মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় মানিকগঞ্জের আরিচা ও পাটুরিয়ায় ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নেমেছে। শনিবার সকাল থেকেই দুই ঘাট এলাকায় ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, আরিচা ও পাটুরিয়া লঞ্চ ঘাট এলাকায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে পা রাখার কোনো ঠাঁই নেই। ঘাট এলাকায় যানজট কিছুটা কমাতে পাটুরিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাট এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের ট্রাক টার্মিনালেই কাটা লাইনের যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে ঘাট পর্যন্ত পৌঁছাতে হচ্ছে তাদের। এরপর ঠেলাঠেলি করে ফেরি ও লঞ্চে উঠতে হচ্ছে। এর ফলে ঈদ যাত্রীদের বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

এদিকে ফেরি পার হওয়ার জন্য বাসের চাপ থাকায় ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজটের দীর্ঘ সারি ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়কে নবগ্রাম পর্যন্ত অন্তত ৫ কিলোমিটার রাস্তা বিস্তৃত হয়ে পড়েছে। এর ফলে ঈদে ঘরে ফেরা ফেরি পারাপার যাত্রীদের ঘাট এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এছাড়া ঢাকার সাভার থেকে শুরু করে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন স্থানে যানজটের কারণে যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে বলে জানান যাত্রীরা। বাস চালকরা জানান, সাভার থেকে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট এলাকায় আসতে প্রায় ২-৩ ঘণ্টা সময় লাগছে।

রাজধানী ঢাকার গাবতলী থেকে ছেড়ে আসা কুমারখালীগামী ঈগল বাসের চালক শাহীন আলম জানান, শুক্রবার রাত ১টায় গাবতলী থেকে রওনা হন তিনি। ভোর ৪টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে এসে যানজটে পড়েন। কিন্তু শনিবার সকাল ৮টায়ও ফেরি পারাপার হতে পারেননি তিনি।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই নৌ-রুটে চলাচলরত বেশির ভাগ ফেরি দীর্ঘ দিনের পুরানো। নদীর স্রোতের সাথে পাল্লা দিয়ে ঘাটে ভিড়তে ফেরিগুলোর স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সময় বেশি লাগছে। এর মধ্যে যানবাহনের চাপ সামাল দিতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অফিসের এজিএম খালেদ নেওয়াজ জানান, স্রোতের কারণে ফেরি পারাপারে সময় বেশি লাগা ও ঈদে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ঘাট এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এ নৌ-রুটে ২১টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তবে কাটা লাইনের বাসে আসা লঞ্চ পারাপার যাত্রীদের চাপও বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।