সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য অনুমোদিত কমিটির সভাপতি রাজিব ইমরান ও সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে শিবির সম্পৃক্ততাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগের কারণে নতুন কমিটির সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। 

রোববার সকালে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিতর্কিত এই কমিটির কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেন। এই সংক্রান্ত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। 

সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম আশিকুর রহমান জানান, গত ২৮ এপ্রিল সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই খবর প্রকাশ পাওয়ার পর  নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অভিযোগ উঠে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাই কমিটির সব ধরনের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক পত্রে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে রাজিব ও সাধারণ সম্পাদক পদে হাসানুজ্জামানের নাম ঘোষণা করা হয়। পরের দিন বিষয়টি জানাজানি হলে তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেতে থাকে। 

ছাত্রলীগেরই বেশ কিছু নেতাকর্মীর অভিযোগ, এই কমিটির অনুমোদনের পেছনে ১৭ লাখ টাকার  লেনদেন হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এই কমিটি দিয়েছেন বলে তাদের অভিযোগ। এ ছাড়া ঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনের বিরুদ্ধেই শিবির সম্পৃক্ততা রয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর আলোচনায় এসেছে রাজিব ইমরানের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলের  আগের কিছু কার্যক্রম। তার ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একটি পোস্টও ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে রাজিব দা হাতে একটি শিশুর ছবি পোস্ট করেছেন, সেখানে লেখা আছে, ‘আমি লেংটা মনির, নৌকায় ভোট চাইতে আইলে ঠ্যাং কাইট্টা রাইখা দিমু।’ 

ওই প্রোফাইলে ২০১৪ সালের ৪ জানুয়ারি শেয়ার করা আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে লেখা আছে, ‘হালার-পো হালা, আজ তোর একদিন, কি আমার একদিন! ভোট না দিয়ে যাবি কৈ?’ 

এ ছাড়া ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট একটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘কাদের সাহেব, ‘যারা হেলমেট পড়ে বা মুখ ঢেকে ছাত্রদের মারধর করে এবং লাঠি, চাপাতি নিয়ে পুলিশের সাথে ঘুড়ে বেড়ায় তাদেরকে কি বিএনপি জামাত শিবির বলে, আপনার চাইতে মখা ভাল ছিলো।’

কমিটির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধেও রয়েছে শিবির সম্পৃক্ততাসহ নানা অভিযোগ। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।