‘ঈদের কোনো হাসি- আনন্দ নেই আমাদের গ্রামে। সবাই এখন পুলিশের ভয়ে ধানি জমিতে রাত কাটায়। পরিবার নিয়ে ঈদ করার সৌভাগ্য নেই আমরার।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আশুরাইল গ্রামের বাসিন্দা মিজান মিয়ার পরিবারের মতো শত পরিবার ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারছেন না। 

নাসিরনগরের বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর ও আশুরাইল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর পুলিশের মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে কেবলই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। 

গত  ২৬ এপ্রিল জমি থেকে ধানের আঁটি আনা-নেওয়া নিয়ে সংঘর্ষে শ্রীঘরের নায়েব উল্লাহ নামে একজন নিহত হন। এর রেশ না কাটতেই শনিবার ৩০ এপ্রিল ওই সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রীঘর গ্রামের দুই গোষ্ঠী সর্দার বাড়ি ও মাঝি বাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। 

এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তারা সংঘর্ষে জড়ায়। লাঠিচার্জের পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়া হয়। 

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করেন নাসিরনগর থানার এসআই শফিকুর রহমান। নিহতের বড় ভাই জিতু মিয়া একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই মূলত দুই গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে।

আশুরাইল গ্রামের বাসিন্দা শরিফা আক্তার বলেন, ‘বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ নাই। বাজার-সদাই করব কেডা! পোলা-মাইয়াদের ঈদের জামাও কিইন্যা দিতে পারছি না।’

শ্রীঘর গ্রামের পরশ মিয়া বলেন,‘ আমরা ঘটনা সাথে জড়িত না। তার পরও আমাদের নাকি গ্রেপ্তার করা হবে বলে এলাকায় বলাবলি করছে। তাই আমরা ঈদের আগে বাড়ি ছাড়া।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুই মামলায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। 

এসআই শফিকুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত। সাধারণ মানুষ তাদের বাড়িতেই আছে। সহিংসতার ঘটনায় জড়িত পুরুষরাই এলাকায় নেই। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত আছে।’


নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, ‘কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তারাই এলাকা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। গ্রেপ্তার করা হচ্ছে অভিযুক্তদের।’