বৈশাখের হালকা বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন স্থানে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোর রাতে শুরু হওয়া কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে এমন জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। 

অনেক স্থানে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বাসা ও গলিতে পানি জমে ছিল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন নগরের কয়েক লাখ বাসিন্দা। 

ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে ঘর থেকে বের হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ। 

এদিকে জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ থেকে মুক্তির দাবিতে শনিবার প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন নগরের চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দারা। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ১২টা থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২১ মিলিমিটার। হালকা বৃষ্টিতে নগরের ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, চান্দগাঁও, পূর্ব ষোলশহর, চকবাজার, কাপাসগোলা, বায়েজিদ, বাকলিয়া ও ডিসি রোড এলাকার রাস্তা ও গলিগুলোতে পানি জমে যায়। প্রথম কর্মদিবসে পানি ডিঙিয়ে অনেকে কর্মস্থলে গিয়েছেন। সড়কে যানবাহন না থাকায় হেঁটে পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছেন অনেকে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, চকবাজারের মোহাম্মদ আলী শাহ দরগা লেইন, ফুলতলা, জেলেপাড়া, বিএড কলেজ গেট, ডিসি রোডে কোথাও পায়ের গোড়ালি, কোথাও আবার হাঁটুপানি। এ ছাড়া চান্দগাঁও ওয়ার্ডের পাঠানিয়া গোদা থেকে চৌধুরী স্কুল পর্যন্ত গোলাম আলী নাজির বাড়ি সড়কটি পুরোটা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডের জীবন মিস্ত্রি বাড়ি, ডাইলের বাপের বাড়ি, অর আলীর বাড়ি, পেটারিপাড়া, হাবিলদার বাড়ি ও মাইজপাড়াসহ আশপাশের পুরো এলাকায় পানি জমে দুর্ভোগে পড়েছেন অর্ধ লাখ বাসিন্দা। বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিচতলার বাসিন্দারা। অনেকের বাসা-বাড়িতে ঢুকে পড়েছে জমে থাকা পানি।

চকবাজার মোহাম্মদ আলী শাহ দরগার লেইনের বাসিন্দা আবদুল হামিদ সমকালকে বলেন, সকাল ছয়টায় পানি জমেছে। বিকেল চারটা পর্যন্ত পানি নামেনি। গলিতে এখনো হাঁটুপানি রয়েছে। নালাগুলো পরিষ্কার করলেও খালগুলো ভরাট। এই এলাকার হিজরা ও চাক্তাইখাল দুটোই ভরাট হয়ে আছে। তাই পানি নামতে পারছে না। সিটি করপোরেশন ও সিডিএর দায়িত্ব অবহেলার কারণে এমন দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

চকবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর মোস্তফা টিনু সমকালকে বলেন, সকাল থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করছি। যেখানে পানি আটকে আছে সেখানে ময়লা পরিষ্কার করে দিয়েছি। কিন্তু জলাবদ্ধতা প্রকল্পের আওতায় খালে প্রতিরোধ দেওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। এ জন্য খালে বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। খাল ভরাট হয়ে থাকায় পানি নামতে পারছে না।

চান্দগাঁও গোলাম আলী নাজির বাড়ি এলাকার বাসিন্দা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ঈসমাইল হোসাইন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট পাচ্ছে এই এলাকার অর্ধলাখ বাসিন্দা। একটু বৃষ্টি হলেই সড়ক ও বাসা-বাড়িতে পানি জমে যায়। যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকে এই দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এখানকার মানুষের দুর্ভোগ এখন অসহনীয় হয়ে পড়েছে।

আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বারবার জানানোর পরও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তির কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ জন্য স্থানীয় লোকজন আগামী শনিবার প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই দুর্ভোগের থেকে মুক্তির ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই এলাকার বাসিন্দারা খাজনা-ট্যাক্স দেওয়া বন্ধ করে দিবে বলে ঘোষণা দিয়েছে মহল্লা কমিটি। খাজনা-ট্যাক্সের টাকায় নিজেরা নালা ও সড়ক সংস্কার করবেন তারা।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১০ হাজার কোটি টাকার চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরমধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। প্রকল্পটির কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর মোবারক আলী বলেন, ‘খালগুলোতে জলাবদ্ধতা প্রকল্পের আওতায় প্রতিরোধ দেওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। এ জন্য বাঁধ দেওয়া হয়েছে। যার কারণে নালা পরিষ্কার থাকলেও খাল দিয়ে পানি নামতে পারছে না। হালকা বৃষ্টিতেই নগরের কয়েকটি এলাকায় পানি জমে যায়। বর্ষা পর্যন্ত তাদের কাজ চলবে। খাল থেকে বাঁধগুলো না সরালে জলাবদ্ধতা হবেই। এ মুহূর্তে আমরা অসহায়।’ 

তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী সমকালকে বলেন, শুক্রবার পর্যন্ত সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। এর পর কয়েকদিন আর বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।