পটুয়াখালীর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য কাজী কানিজ সুলতানা হেলেনের ছেলের বরযাত্রীদের সঙ্গে পায়রা সেতুর টোল আদায়কারীদের সংঘর্ষে নববধূসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশসহ র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। টোল আদায়কে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষে আহত বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, কাজী হেলেনের বড় ছেলে মাহিন তালুকদার নতুন বউ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল থেকে পটুয়াখালী ফিরছিলেন। পথে দুমকী উপজেলার লেবুখালীতে পায়রা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে টোল আদায়কারীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।

আওয়ামী লীগ নেতা কাজী হেলেন দাবি করেন, এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। পটুয়াখালী থেকে বরিশাল যাওয়ার পথে পায়রা সেতুর টোলপ্লাজার লোকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা হাসতে হাসতে বিয়ের মিষ্টি ও বখশিশ দাবি করেন। তখন তার ছোট ছেলে বলছেন, ফেরার পথে মিষ্টি ও বখশিশ দিয়ে যাবেন। যাওয়ার সময় কিছু হলো না। কিন্তু বরিশাল থেকে পটুয়াখালী ফেরার পথে হঠাৎ টোলপ্লাজার স্টাফরা তার বড় ছেলে ও ছোট ছেলের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে যান। একপর্যায়ে তার ছোট ছেলের বন্ধু মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আশিককে টেনেহিঁচড়ে টোলপ্লাজার নিচতলায় নিয়ে বেদম মারধর করে।

এমপি বলেন, হামলাকারীরা নতুন পুত্রবধূর ডান হাতের তিন আঙুলের ফলস নখ নিয়ে গেছে এবং এ সময় তার হাতের স্বর্ণের বালাও নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে পুত্রবধূর ডান হাতে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। এ ছাড়া মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের আইফোন, ড্রাইভারের স্মার্টফোন ও এমপির গাড়ির ভিআইপি হর্ন নিয়ে গেছে তারা।

তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনার সময় টোলপ্লাজার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এটি একটি পরিকল্পিত ডাকাতি। এ বিষয়ে তারা মামলা করবেন। তিনি বলেন, ক'দিন আগে বিএনপির প্রোগ্রামে টোল ফ্রি করে দেওয়া হলো আর আওয়ামী লীগের এমপির ছেলের বিয়ের বহরে হামলা হয়। বোঝার বাকি নেই, এরা কারা?

পায়রা সেতুর টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আসাদুজ্জামান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তারা জানতে পেরেছেন, একটি বিয়ের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ব্রিজ পার হয়ে টোলপ্লাজায় আসার পর টোল চাইলে গাড়ি থেকে নেমে এমপির পরিবারের সদস্য পরিচয় দেন। এ সময় তাদের তথ্য যাছাই-বাছাই করার একপর্যায়ে গাড়ি থেকে নেমে কয়েকজন যুবক টোল আদায়কারী স্টাফদের সঙ্গে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে স্টাফদের মারধর শুরু করে। এতে তাদের বেশ কয়েকজন স্টাফ আহত হন। পরে তারা অফিস রুমে এসেও স্টাফদের মারধর করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

দুমকী থানার ওসি আব্দুস সালাম জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত। সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। দু'জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।