ছিল না হেলমেট। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না তার। তবে বাসনা ছিল অদম্য গতিতে ছোটার। ঈদের আনন্দে এক বন্ধুর মোটরসাইকেল ধার নিয়ে তিনি ছুটেছিলেন। পেছনে বসা ছিল আরেক বন্ধু। বেপরোয়া গতির এই লাগামহীন আনন্দই যে সাধের জীবনের লাগাম টেনে ধরবে তা কে জানত? জানলে, বুঝলে বেঁচে যেত মূল্যবান প্রাণটি। 

বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল নিয়ে ছোটা ওই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের নাম মো. তুষার (২৫)। বন্ধু মো. হাসানকে (২৭) নিয়ে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল হাঁকিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি। এতে পাকা সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে মোটরসাইকেলটি। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। আর গুরুতর আহত হন হাসান। 

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় সোবহানপুর পুলের গোড়ায় গতকাল রোববার রাত ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গিয়াসউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত তুষার চাটখিল উপজেলার শ্রীনগর গ্রামের কাদের হোসেনের ছেলে। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম মহসিন সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। প্রাথমিকভাবে হাসানের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুষার ও হাসান মোটরসাইকেলে চাটখিল থেকে লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়া নামক স্থানে যাচ্ছিলেন। 

ওসি মো. গিয়াসউদ্দিন প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলেন, বেপরোয়া গতির কারণে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। স্থানীয়রা আহত হাসানকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৮৩০ জন। আর ২০১৯ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান ৯৪৫ জন। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৬৩ জনে। আর ২০২১ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান ২ হাজার ২১৪ জন। ২০২১ সালে আগের বছরের চেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ ও এই দুর্ঘটনাগুলোতে মৃত্যু ৫১ শতাংশ বেড়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৭৫ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ৪৫ বছর।