লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের 'নিখোঁজ' সেই চার কিশোরী বোনকে ৩৯ ঘণ্টা পর এক পুলিশ সদস্যের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাত ১১টার দিকে কমলনগর থানা পুলিশ পরিবারের সদস্যদের কাছে তাদেরকে তুলে দেয়। এর আগে রোববার রাত ৯টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন।

এ সময় তিনি জানান, লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগার সংলগ্ন এক পুলিশ সদস্যের বাসায় ওই চার কিশোরীকে পাওয়া যায়। রোববার সন্ধ্যায় আরেক পুলিশ সদস্য তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ওই চার কিশোরী অভাব অনটন ও কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হয়। তারা কাজ করে পরিবারের অভাব অনটন দূর করতে বাবা-মার অগোচরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে একটি সিএনজিযোগে জেলা শহরের উত্তর তেমুহনীতে আসে। এরপর নুরুল ইসলাম নামের এক পুলিশ সদস্যের বাড়িতে আশ্রয় নেয় তারা। পরে বিষয়টি কমলনগর থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

পুলিশ সুপার বলেন, অন্য কারও প্ররোচণা কিংবা তাদের কেউ অপহরণ করেনি। তারা স্বেচ্ছায় কাজের সন্ধানে বাড়ি ছাড়ে বলে জানিয়েছে। তারপরও বিষয়টি নিয়ে আরো তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে, নিখোঁজের ৩৯ ঘণ্টা পর চার কিশোরীকে ফিরে পেয়ে তাদের পরিবারের সবাই খুশি।

এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের বাদামতলী এলাকা থেকে সামিয়া আক্তার, জোবায়দা আক্তার, সিমু আক্তার ও মিতু আক্তার নামে (চাচাতো ও খালাতো বোন) চার কিশোরী একসঙ্গে সামিয়ার নানার বাড়ির (নোয়াখালীর আন্ডারচর) উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তাদের খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে কমলনগর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এনিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।