দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে মামলা চলার পর নুরন্নবী (২২) নামের এক যুবককে হত্যার অপরাধে ৮ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 

আজ সোমবার দুপুর ১টার দিকে কুড়িগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নান এই রায় দেন। এ সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, শ্যালো মেশিন থেকে গম ক্ষেতে পানি দেওয়া নিয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নৃশিংভাঁজ নতুন গ্রামের মৃত ফজর উদ্দিনের ছেলে মোখলেছুর রহমানের (৫৫) সাথে পার্শ্ববর্তী কাঁচকোল সরকারটারী গ্রামের ঘেতু শেখের ছেলে তছলিম উদ্দিনের (৩২) ঝগড়া হয়। এরই জেরে কাচঁকোল বাজারের দোকানের ভিতরে মোখলেছুর রহমানের ছেলে নুরন্নবীকে (২২) কৌশলে নিয়ে গিয়ে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়। গত ২০০৪ সালের ২২ জানুয়ারি রাতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এরপর ২০০৪ সালের ২৩ জানুয়ারি সকাল ৭টার দিকে নিহত নুরন্নবীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নুরন্নবীর বাবা মোখলেছুর রহমান বাদী হয়ে ওই দিন ৯ জনকে আসামি করে চিলমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরমধ্যে মামলা চলাকালে একজন আসামির মৃত্যু ঘটে।

দীর্ঘদিন মামলাটির বিচার চলাকালে ৪৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণে মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

যাবজ্জীবন করাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ঘেতু শেখের ছেলে রাশেদ, মকবুল হোসেন ও তছলিম উদ্দিন; দারাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাদের, মতিয়ার রহমানের ছেলে মিন্টু মিয়া, মনির উদ্দিনের ছেলে মোসলেম উদ্দিন, সেকন্দার আলীর ছেলে মোনাল ওরফে মোন্নাফ এবং মৃত ওসমান আলীর ছেলে নুরু মিয়া।

আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আমজাদ আলী ও শামসুদ্দোহা রুবেল এবং সরকার পক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর এসএম আব্রাহাম লিংকন মামলাটি পরিচালনা করেন।