স্বরূপকাঠির সারেংকাঠিতে বিয়ের দাবিতে স্বামী, সন্তান, নাতি ফেলে রেখে ইউপি সদস্যের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন সাহিদা আক্তার নামে (৪৫) এক গৃহবধূ। রোববার সারেংকাঠি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আল আমিনের (৪২) বাড়িতে অবস্থান নেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

বিয়ের দাবিতে ওই গৃহবধূ অবস্থান নেওয়ার পর এলাকার সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে বৈঠকের মাঝখান থেকে আল আমিন গাঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তিনি তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রেখেছেন।

গৃহবধূ সাহিদার দাবি, প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আল আমিন তার সর্বস্ব লুটে নিয়েছে। এখন আল আমিনকে বিয়ে করা ছাড়া তার সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। তাই বাধ্য হয়েই এই পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ সায়েম জানান, গত বৃহস্পতিবার মেম্বার আল আমিন এবং একই এলাকার বাবুল মাঝির স্ত্রী সাহিদা আক্তার আপত্তিকর অবস্থায় এলাকাবাসীর কাছে ধরা পড়ে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় কোনো উপায় না পেয়েই সাহিদা বিয়ের দাবিতে আল আমিনের বাড়িতে উঠেছে।

ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আব্দুর রাজ্জাক মীর বলেন, আল আমিনের সাথে সাহিদার চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এর আগেও বেশ কযেকবার তারা হাতেনাতে ধরা পড়েছে। আল আমিনের বয়স ৪২ বছর পার হলেও সে আজ পর্যন্ত বিয়ে করেনি।

ইউপি সদস্য আল আমিন

সাহিদার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন আল আমিনের বড় ভাই মো. মোস্তফা। তিনি জানান, তার ভাইয়ের সাথে ওই নারীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেম চলছিল। বৃহস্পতিবার একান্তে কথা বলার সময় এলাকার লোকজন তাদের ধরে ফেলে। বিষয়টি নিয়ে লোকজন বাড়াবাড়ি করেছে।

ওই এলাকার সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য সুচিত্রা রানী বিশ্বাস বলেন, ওই নারীর স্বামী ও ৩ ছেলে রয়েছে। এর মধ্যে দুই ছেলের বিয়ে হয়েছে। ছেলের ঘরে নাতিও রয়েছে। তার সঙ্গে আল অমিনের সম্পর্ক রয়েছে। বৃহস্পতিবার এক ঘটনা কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে রোববার ওই নারী আল আমিনে ঘরে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি। বৈঠকের এক পর্যায়ে মিথ্যা 'প্রকৃতির ডাকে সাড়া' দেওয়ার মিথ্যা বাহানা দিয়ে আল আমিন পালিয়ে যায়। এদিকে ওই নারী স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে, আল আমিন তাকে বিয়ে না করলে সে ওই ঘরেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবে।

এ বিষয়ে সারেংকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি অনেক পুরনো। আমরা এক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও বের করে দিয়েছিলাম। এ বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে বসে একটা মীমাংসা করা হবে।