ঘূর্ণিঝড় আশানির প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠায় সুন্দরবনসংলগ্ন শ্যামনগর উপকূল রক্ষা বাঁধে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলের খোলপেটুয়া, কপোতাক্ষ ও কালিন্দি নদীর পানি বাড়লে বাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করবে বলে আশঙ্কা করছেন কাশিমাড়ী, বুড়িগোয়ালীনি, গাবুরা ও কৈখালী এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অব্যাহত ফেউয়ের তোড়ে কৈখালী বিজিবি ক্যাম্প, ভামিয়া ও হরিশখালী এলাকার বাঁধ রীতিমত সরু আইলে পরিণত হয়েছে। 

এছাড়া কপোতাক্ষ পাড়ের নেবুবুনিয়া ও খোলপেটুয়া নদী তীরবর্তী  ৯নং সোরাসহ আরও কয়েকটি এলাকার বাঁধ উপচে পানি ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। 

দুর্গাবাটিসহ বিড়ালাক্ষী কুনের মাথা এলাকায় চিংড়ি ঘের ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মাছ ব্যবসায়ীরা।

বিড়ালাক্ষী গ্রামের বাসিন্দা জোবায়ের হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বাঁধের অবস্থা সঙ্গীন। তারপর নদীগুলো থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। এখন ঘূর্ণিঝড় আশানির প্রভাবে নদী যখন উত্তাল, তখন প্রশাসনসহ সবার টনক নড়েছে। 

কৈখালী বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন নৈকাটি গ্রামের আনিছুর রহমান বলেন, বাঁধ মেরামতের নামে ভাঙনকবলিত অংশে মাটি ফেলা হয়েছে। কিন্তু বড় জলোচ্ছ্বাস এলে এই বাঁধ ধসে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

হরিশখালী ও নেবুবুনিয়াসহ গাবুরার ৩০ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারের আশ্বাস এলেও আদতে তার কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ ওই এলাকার বাসিন্দা  আব্দুর রশিদ, তৈয়েবুর রহমান এবং শ্যামাপদ মন্ডলের । 

শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলমও বাঁধের বেহাল দশার কথা স্বীকার করে নেন।

তিনি বলেন, গাবুরার ১২ কিলোমিটার বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জোয়ারের সঙ্গে ঝড়ো বাতাস বইলে গাবুরা পানিতে তলিয়ে যাবে।

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় আশানি উপকূলে আঘাত হানলে গ্রামবাসীকে সরিয়ে নিতে ১৫টিরও বেশি সাইক্লোন শেল্টারসহ দ্বিতল ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রামর্শ করে ইউনিয়নের প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, সীমান্তবর্তী কালিন্দি নদীর অব্যাহত ঢেউয়ে তদসংলগ্ন 

পাউবোর শ্যামনগর উপ-বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, শ্যামনগর উপকূলের ১৭টি স্থানে বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ৩৫ হাজার সিনথেটিক বস্তা বালু ভর্তি অবস্থায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।