ময়মনসিংহের রিকশাচালক ইয়াকুব আলীর মেয়ে রেনু বেগম ৩৪ বছর আগে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে নিখোঁজ হন। তাকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিল পরিবার। তবে জীবনসায়াহেক্র এসে অকল্পনীয়ভাবে মেয়ের খোঁজ পেয়েছেন ইয়াকুব ও তার স্ত্রী। রেনুর সন্ধান মিলেছে পাকিস্তানে। সেখানে বিয়ে করে নাতির মুখও দেখে ফেলেছেন তিনি। এবার তিনি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের তেলুয়াড়ি গ্রামের বাসিন্দা ইয়াকুব (৯৫) ও ফুলবানুর সাত সন্তানের দ্বিতীয় রেনু। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রেনুর নাতি আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশে তার নানির বাড়ির খোঁজ করেন। হোয়াটসঅ্যাপে তার সঙ্গে পরিচয় হয় আঠারবাড়ি রায়বাজার এলাকার যুবক আহাদুল ইসলাম নাঈমের। তার কাছে নানির স্বজনের সন্ধান চান আনোয়ার। তার অনুরোধে নাঈম নিজের এলাকায় খোঁজ শুরু করেন পরিবারটির। কয়েক দিনের চেষ্টায় পেয়েও যান তাদের। রেনুর কপালের কাটা দেখে মেয়েকে শনাক্ত করে বাবা-মা। ১৪ বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া রেনু বর্তমানে লাহোরের ভাওয়ালপুর জেলার আহাম্মদপুর দক্ষিন গ্রামে বসবাস করছেন। আবুল করিম নামে একজনকে বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন। তিন ছেলে ও তিন মেয়ে আর নাতি-নাতনি নিয়ে সুখের সংসার তার। এদিকে দেশে রেনুর পরিবারও এখন স্বাবলম্বী।  তার তিন ভাই সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালান। 

অলৌকিকভাবে রেনুর সন্ধান পাওয়ায় দেশে তার পরিবার উচ্ছ্বসিত। তার দেশে ফেরার অপেক্ষায় বাবা-মা ও ভাইবোনরা।

রেনুর মা ফুলবানু জানান, মেয়ে জানিয়েছে যে তাকে দালালরা বিক্রি করে দিয়েছিল। ঈুল আজহার পর পুরো পরিবার নিয়ে দেশে আসবে সে।