ইছামতী নদীতীরবর্তী নবাবগঞ্জের মেয়ে অনন্যা। আর্থিক অনটনের কারণে লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে উপায়ান্তর না পেয়ে গত বছর নবম শ্রেণিপড়ূয়া অনন্যা নবাবগঞ্জে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তার দ্বারস্থ হয়। সব ঘটনা শুনে ফ্যাশন ডিজাইনের ওপর তার তিন মাসের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেন সেখানকার মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সাদিয়া আফরীন। প্রশিক্ষণ শেষে দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী অনন্যা অভাব জয়ের পথে হাঁটছে। তার হাতে তৈরি দেশীয় পণ্য এখন শোভা পাচ্ছে রাজধানীর লালমাটিয়ায় মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর ভবনের পণ্যপ্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্রে। শুধু অনন্যার তৈরি পণ্যই নয়; সাভারের নারী উদ্যোক্তা জুঁইয়ের হাতে তৈরি কাগজের ফুল, আচার এখন রাজধানীর ক্রেতারাও কিনে নিতে পারছেন সহজেই।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, কেন্দ্রে থরে থরে সাজানো রয়েছে ঢাকার পাঁচ উপজেলা সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও দোহারের নতুন নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য। এখানে নকশী কাঁথার পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে হ্যান্ডিক্রাফট, নকশী পাঞ্জাবি, কুশন, কভার, কাগজের ফুল, নানান স্বাদের আচার, কাপড়ের তৈরি চুড়িসহ বিভিন্ন আধুনিক পণ্য।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ইনকাম জেনারেশন অ্যাক্টিভিটিজ (আইজিএ) প্রকল্পের আওতায় আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ নিয়ে নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরি হলেও তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্র ছিল না। বিভিন্ন মেলার ওপর ভরসা করতে হচ্ছিল তাদের। পিছিয়ে পড়ছিলেন অনেকে। পিছিয়ে পড়া সেই নতুন নারী উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতেই এ পণ্যপ্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

গতকাল অনাড়ম্বর এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি বলেন, দেশের নারীদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ ও পণ্য বাজারজাতকরণে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার এবং জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান। আইজিএ প্রকল্প পরিচালক মো. তরিকুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয় এবং দপ্তর-সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।