বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে নতুন করে তৎপর হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাড়ে তিন বছর আগে তাকে তলব করেছিল দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। তার স্ত্রী ও ভায়রাকেও তলব করা হয়েছিল। তাদের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা চেয়েছিল দুদক। আমীর খসরু উচ্চ আদালতে যাওয়ার পর সে প্রক্রিয়া গতি হারায়। সম্প্রতি বিষয়টি আবার গতি পেয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে আমীর খসরুর বিষয়ে চার ধরনের তথ্য চেয়েছে দুদক।

গত ২৪ মার্চ তথ্যগুলো চেয়ে চিঠি পাঠান দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক সেলিনা আক্তার।

এতে ঢাকায় সিএসইর নামে বরাদ্দকৃত জায়গায় কীভাবে আমীর খসরু পাঁচতারকা হোটেল (সারিনা) নির্মাণ করেছেন, তার বিস্তারিত তথ্য ও নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে প্রধানত চার ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে- চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জের নামে রাজউকের বরাদ্দ করা প্লটের যাবতীয় দলিলপত্রের সত্যায়িত কপি; নথির নোটশিট, রেজুলেশনসহ যাবতীয় কাগজপত্র; প্লটটির লেনদেন ও হস্তান্তর সংক্রান্ত তথ্য এবং প্লটটির অর্জন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যাবতীয় তথ্যের একটি সারসংক্ষেপ।

চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম ফারুক সমকালকে বলেন, 'আমাদের কাছে দুদক যেসব তথ্য জানতে চেয়েছে, সেগুলোর জবাব আমরা দিয়েছি। এর বেশি কিছু এ মুহূর্তে বলতে চাই না।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'বাংলাদেশে এখন কী চলছে, তা কারও বোঝার বাকি নেই। আমার বিরুদ্ধে কেন এসব করা হচ্ছে, সেটাও মানুষ জানে। রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই এখন দুদককে বেছে নিয়েছে সরকার।'
নতুন করে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে তথ্য চাওয়া প্রসঙ্গে কিছু জানেন না বলে জানান বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট অবৈধ লেনদেন, অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমীর খসরুকে তলব করে নোটিশ দিয়েছিলেন দুদকের তৎকালীন পরিচালক কাজী শফিকুল। এতে আমীর খসরুর বিরুদ্ধে বেনামে পাঁচতারকা হোটেল ব্যবসা, ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের পাশাপাশি স্ত্রী-পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও নিজের নামে শেয়ার ক্রয়সহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
দুদকের তলবে আমীর খসরু উপস্থিত না হওয়ায় একই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর হাজির হতে আরেকটি নোটিশ দিয়েছিল দুদক। কিন্তু তিনি নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর আদালত ওই রিট আবেদন খারিজ করে দেন আদালত। পরে দুদকে গিয়ে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন আমীর খসরু।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকের এ অনুসন্ধানকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে বিএনপি। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন সমকালকে বলেন, 'সাড়ে তিন বছর অনুসন্ধান করেও তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পায়নি দুদক। এখন তাই নতুন করে চিঠি চালাচালি করছে। সামনে নির্বাচন। দলের গুরুত্বপূর্ণ এই জ্যেষ্ঠ নেতা যাতে সক্রিয় না হন, সে জন্য এসব কূট কৌশল গ্রহণ করেছে সরকার।'