উত্তরের শস্য ভাণ্ডার খ্যাত পাবনা জেলার ৯টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ধান আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে ঘূর্ণিঝড় ' আসানি’র কারণে ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকদের ধান কাটা কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানায়, পাবনা জেলার ৯টি উপজেলায় ৫৩ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন। সূত্র জানায়, কৃষকেরা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু করে মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে দানা জাতীয় ফসল উচ্চ ফলনশীল (উফশী) ও হাইব্রিড জাতের বোরো ধানের আবাদ করেন। যথাসময়ে সেচ,বীজ ও সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় ও সময়মত বৃষ্টি হওয়ায় চলতি মৌসুমে বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানান কৃষকরা।

সরেজমিনে সাঁথিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজের মধ্যে সোনালি ধান। মাঠের পর মাঠ বাতাসে দোল খাচ্ছে এ সব বোরো ক্ষেত। আর এ দোলায় লুকিয়ে আছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। ইতোমধ্যে জেলার অনেক এলাকায় শুরু হয়েছে আগাম জাতের বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও কৃষাণীরা। অনেকেই মাঠেই ধান শুকিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার ধান সিদ্ধ ও গরুর খড়ের জন্য কাঁচা ধানের খড় শুকাচ্ছেন। ধান চাষীদের বাড়িতে বাড়িতে চলছে উৎসবের আমেজ। এক সপ্তাহের মধ্যেই উপজেলার সর্বত্রই পুরোদমে শুরু হবে বোরো কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। এ ছাড়া বোরো আবাদে খরচ কম হওয়ায় এবং ভালো দাম পেলে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা। আবাদে খরচ কম হওয়ায় এবং লাভ বেশি পাওয়ায় দিন দিন পাবনার কৃষকেরা বোরো আবাদের দিকে ঝুঁকছেন।

সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন, চকপাট্ট্রা গ্রামের আফতাব মন্ডল, আমোষ গ্রামের আলমগীর হোসেন, জোড়গাছা গ্রামের ওয়াজেদ আলীসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে বোরোর আবাদ করতে শ্রমিক,সেচ,সার,কীটনাশক,ধান কাটা ও মাড়াই বাবদ খরচ হয় ৮/৯ হাজার টাকা। তারা জানান, চলতি মৌসুমে বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে এ বছর প্রায় ২৮ থেকে ৩০ মন ধান উৎপাদন হবে বলে তারা আশা করছেন। তবে এ বছর সবচেয়ে বেশি ফলন হবে ব্রি-ধান ২৯ ও ৮৯ জাতের ধানে। চলতি মৌসুমে ব্রি-ধান ৮৯ জাতের ধানে প্রতি বিঘায় ফলন হবে প্রায় ৩৫ মণ,গড় ফলন হবে ৩১ মণের উপরে বলে জানান তারা। বর্তমানে প্রতি মণ ধানের বাজারমূল্য ধানভেদে ৯০০ থেকে ১১০০ টাকা,তাদের দাবি তারা যেন এবার ধানের ন্যায্য মূল্য পান।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস পাবনার উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান সমকাল‘কে বলেন, এবারে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি বোরা মৌসুমে কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা হিসেবে উন্নত বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নতুন জাত বঙ্গবন্ধু ধান-১০০ আগাম জাতের ধান হওয়ায় অল্প দিনেই পেকে যায় ও ঘরে তোলা যায় এবং এটা উচ্চমাত্রার জিংক সমৃদ্ধ খাবার। এ ধানে ফলন ভালো ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি যা মানবদেহের দৈনন্দিন জিংকের অভাব পুরণ করে।

তিনি আরও বলেন, মৌসুমের শুরুতেই আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত এলাকাভিত্তিক মাঠ পরিদর্শন,মাঠ দিবস,কৃষক সমাবেশ করে চাষীদের সঠিক সময়ে সেচ,সার ও বালাইনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া আমাদের কৃষি বিভাগ থেকে আবহাওয়া সম্পর্কে মোবাইলে ম্যাসেজ দেওয়া হয় কৃষকদের সতর্ক হওয়া ও ফসলের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য । আমাদের কৃষকেরা যেন ধানের ন্যায্য মূল্য পান সে জন্য বাজার মনিটরিং অব্যাহত আছে।