জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জমি নিয়ে হামলা-সংঘর্ষে গুরুতর আহত একই পরিবারের চিকিৎসাধীন ৫ সদস্যকে গ্রেফতার ও তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে সরিষাবাড়ী থানার ৪ জন এসআইকে সাময়িক বরখাস্ত ও দুই পুলিশ সদস্যকে জামালপুর পুলিশ লাইনসে ক্লোজ করে নেওয়া হয়েছে।

৪ এসআই হলেন এসআই আলতাফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মোন্তাজ আলী, ওয়াজেদ আলী এবং পুলিশ সদস্য সাথী আক্তার এবং মোজাম্মেল হক। এ ঘটনা জামালপুর সদর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন সুমনকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তের কাজ শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার বিকেলে সরিষাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটনাটি ঘটে।

জানা যায়, সরিষাবাড়ী পৌরসভার বাউসিবাজার এলাকার আব্দুল জলিলেরর ভোগদখলী ২০ শতাংশ বাড়িভিটার জমি নিয়ে প্রতিপক্ষ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। এই বিরোধপূর্ণ জমি গত সোমবার মুজিবুর রহমান তার দলবল নিয়ে দখলের চেষ্টা চালায়।

এতে বাধা দেয় আব্দুল জলিল ও তার সমর্থকরা। পরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং লাঠিসোঁটা, রামদা, রডসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে আহত আব্দুল জলিল (৬৪), তার স্ত্রী লাইলী বেগম (৫০), বড় ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (৩০), মেজো ছেলে ওয়াজ করোনি (২৫), ছোট ছেলে হামদাদুল হককে (১৬) সরিষাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একই পরিবারের ওই ৫ জনের বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন প্রতিপক্ষ মুজিবুর রহমান। এ প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি গুরুতর আহত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করতে যায়। এ সময় তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং হাত-পা ধরে ঝুলিয়ে টেনেহিঁছড়ে হাসপাতালের দুতলা থেকে নিচতলায় নিয়ে আসে পুলিশ।

পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর পুলিশ তড়িঘড়ি করে গ্রেফতার ৫ জনকে জামালপুর জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় জামালপুর পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমদে মঙ্গলবার রাতে ওই ৪ জন এসআইকে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত ও দুই পুলিশ সদস্যকে জামালপুর পুলিশ লাইনসে ক্লোজ করেন।

জামালপুর পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ঘটনার ৪ জন এসআইকে সাময়িক বরখাস্ত ও দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। এ ছাড়া এক সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।