কুষ্টিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহিন উদ্দিনকে খুন করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে পৌর কাউন্সিলর রেজাউল ইসলাম ওরফে মাছ বাবুর ‍বিরুদ্ধে। হুমকি দেওয়ার একপর্যায়ে শাহিনকে উদ্দেশ্য করে বাবু বলেন ‘তোকে খুন করে জেল খাটব, তুই কত বড় নেতা হয়েছিস; তা আমি দেখে নেব।’

এ সময় বাবুর সঙ্গে তার শতাধিক অনুসারী পৌর মেয়র কার্যালয়ে মহড়া দেয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুমকির ঘটনার পর প্যানেল মেয়র শাহিন উদ্দিন কুষ্টিয়া মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। বুধবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দাপ্তরিক কাজে যান প্যানেল মেয়র শাহিন উদ্দিন। পৌর মেয়র আনোয়ার আলীর কার্যালয়ে কাজ শেষে তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল ইসলাম বাবু শতাধিক অনুসারী সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। শাহিনকে দেখেই বাবু রেগে যান। অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। একপর্যায়ে বলেন ‘শালা তোকে দেখে নেব, তোকে খুন করে জেল খাটব, তুই কত বড় নেতা হয়েছিস; তা আমি দেখে নেব।' এরপর সেখান থেকে চলে যান তিনি।

বিষয়টি তিনি মেয়র আনোয়ার আলী ছাড়াও পুলিশ সুপার ও আওয়ামী লীগ নেতাদের জানান। বিকেল ৪টার দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানায় রেজাউল ইসলাম বাবুর নামে অভিযোগ করেন শাহিন। এ ঘটনায় আইনি প্রতিকার চেয়েছেন তিনি।

প্যানেল মেয়র শাহিন উদ্দিন সমকালকে বলেন, ‌ডিস ব্যবসা নিয়ে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের সঙ্গে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর ঝামেলা হয়। এ বিষয়ে আমি কিছুই না জানলেও শতাধিক লোকজন নিয়ে এসে আমাকে মেয়রের কার্যালয়ের সামনে এসে খুন করার হুমকি দেন।’

জানা গেছে, কাউন্সিলর রেজাউল ইসলাম বাবুর সঙ্গে লাইসেন্স করা দুটি অস্ত্র থাকে। এসব অস্ত্র তার ভাই ও সহযোগীরা বহন করেন। এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি ক্রয়-বিক্রয় থেকে কমিশন আদায়, সিএনজিস্ট্যান্ড থেকে মাসিক চাঁদা আদায়সহ নানা অভিযোগ আছে বাবুর বিরুদ্ধে। তিনি চুন থেকে পান খসলেই লোকজনকে মারধর করেন।

এর আগে চাঁদা না পেয়ে দুই মোটরশ্রমিককে তার অফিসে আটকে রেখে বেদম মারপিট করেন তিনি। পরে একই ঘটনায় অন্য একজনকে ছুরিকাঘাত করেন তার ভাই। আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতার কাছের হওয়ায় তিনি এলাকায় নানা অপকর্ম করে আসছেন।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর রেজাউল ইসলাম বাবু বলেন, ‌‘আমি ‌কাউকে হুমকি দেইনি। এসব মিথ্যা কথা।’

কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাব্বিরুল ইসলাম বলেন, হুমকির ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।