চট্টগ্রামের 'ফুসফুস' হিসেবে পরিচিত সিআরবির প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় এবার আশার আলো দেখা দিয়েছে। টানা ১০ মাস আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পর বিতর্কিত হাসপাতাল প্রকল্পটি চট্টগ্রামের সিআরবি থেকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় রেলওয়ের জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। রেলপথ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির ২০তম সভায় এ প্রস্তাব করা হয়েছে।

কুমিরায় রেলওয়ে স্টেশনের বিপরীতে পরিত্যক্ত একটি বক্ষব্যাধি হাসপাতাল রয়েছে। এক সময় বক্ষব্যাধি রোগের প্রাদুর্ভাব থাকায় কুমিরায় রেলকর্মীদের চিকিৎসার জন্য বক্ষব্যাধি হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ৩০ বছর আগে সেই হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে হাসপাতাল ভবনটি পরিত্যক্ত হয়ে রয়েছে। রেলের এই হাসপাতাল ও এর আশেপাশে রেলওয়ের প্রায় ৯ একর জায়গা রয়েছে। সেখানেই হাসপাতালটি নির্মাণের প্রস্তাবনা গ্রহণ করেছে রেলপথ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি। গত মঙ্গলবার সংসদীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেলপথ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম। তিনি জানিয়েছেন, চট্টগ্রামবাসীর উন্নত চিকিৎসার সুবিধার্থে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে হাসপাতাল হোক- সেটি চায় না চট্টগ্রামের মানুষ। তবে হাসপাতালেরও প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে হাসপাতালটি নির্মাণে বিকল্প স্থান হিসেবে কুমিরার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল কোথায় হবে সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সিআরবি থেকে কুমিরায় হাসপাতাল প্রকল্প সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল। তবে এ নিয়ে চট্টগ্রামবাসী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে চান বলে জানিয়েছেন তারা। তবে তারা বলেছেন, সিআরবি থেকে হাসপাতাল প্রকল্পটি সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সদর দপ্তর সিআরবি'র শতবর্ষী বৃক্ষরাজি ও সবুজের সমারোহ ধ্বংস করে হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হলে গত বছরের ৯ জুলাই সমকালে -'চট্টগ্রাম নগরীর 'ফুসফুসে' গাছ কেটে হাসপাতাল নির্মাণ'- শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপরই সিআরবির প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় চট্টগ্রামে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠে। এ আন্দোলন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রবাসীদের মাঝেও এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সিআরবিতে টানা ১০ মাস ধরে অবস্থান কর্মসূচিসহ নানা ধরনের প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করে আসছে নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রাম।