নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় যৌন হয়রানিকে কেন্দ্র করে নবীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। হামলায় চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন সোহেল ও তার ভাগ্নে নজরুল ইসলাম আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুর গ্রামের নুরানি মাদ্রাসাসংলগ্ন কালামিয়ারটেক এলাকায় ঘটনা ঘটে।

আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন কয়েকটি দেশি অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। বুধবার মামলার পর তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আটক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হলো- নবীপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের অন্তর, বেগমগঞ্জ উপজেলার রফিকপুর গ্রামের টিপু, আবদুল গনি পারভেজ ও ইমরান হোসেন ওরফে শান্ত।

চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন সোহেল জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে গোপালপুর গ্রামের জসিমের নতুন বাড়িতে দুই কিশোরী পুকুরে গোসল করতে গেলে তাদের উত্ত্যক্ত করে একই গ্রামের হারিস মোল্লাবাড়ির বাশারের ছেলে রবি ও তার সাঙ্গপাঙ্গ। পরে কিশোরীদের পরিবার বিষয়টি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিকেলে রবি ও কিশোর গ্যাংয়ের বহিরাগত সদস্যরা কিশোরীদের বসতঘরে হামলা চালায় এবং তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। চেয়ারম্যানকে ঘটনা জানানোর পর তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিতে বলেন। এছাড়া ঘটনাস্থলে ইউপি সদস্য আব্দুস সোবহানকে এবং গ্রাম পুলিশ পাঠান। এতে কিশোর গ্যাং সদস্যরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কিশোরীদের বাড়িঘরে আবার হামলা করে।

ইউপি চেয়ারম্যান জানান, খবর পেয়ে তিনি তার ব্যক্তিগত গাড়িতে করে তার ভাগ্নে নজরুলকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে নিবৃত করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই সময় হামলাকারী অভিযুক্ত রবিসহ দুইজনকে চেয়ারম্যানের গাড়িতে তোলা হয়। এক পর্যায়ে আকস্মিক রবির কিশোর গ্যাংয়ের ৩০-৩৫ সদস্য এসে চেয়ারম্যান ও তার ভাগ্নে নজরুল ইসলামের (৩৫) ওপর হকিস্টিক ও রড দিয়ে হামলা চালায়। এতে চেয়ারম্যানের বাম চোখ ও কপালে গুরুতর আঘাত লাগে এবং নজরুলের মাথা ফেটে যায়। হামলাকারীরা চেয়ারম্যানের গাড়িটিও ভাঙচুর করে। এ সময় এলাকাবাসী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলেও চারজন ধরা পড়ে। পরে চেয়ারম্যান ও তার ভাগ্নেকে উদ্ধার করে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গভীর রাতে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেলা সদরে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন সোহেল বলেন, তার ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামের ছোবহান সর্দারের ছেলে শিহাব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের লিডার। তিনি অভিযোগ করে বলেন, হামলার শিকার কিশোরীদের পরিবার ৯৯৯-এ কল দেওয়ার পর ঢাকা থেকে সেনবাগ থানা পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও সেনবাগ থানা পুলিশ গড়িমসি করে। পরে রাত ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল গেলে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে ঘেরাও করে রাখে। চেয়ারম্যান বলেন, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গেলে এত বড় ঘটনা ঘটত না।

সেনবাগ থানার ওসি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, হামলার শিকার পরিবারের পক্ষে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০-১২ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে বুধবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আটক চারজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) নাজমুল হাসান রাজিব বলেন, হামলায় জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ মাঠে রয়েছে।