টঙ্গী-জয়দেবপুর রেল সড়কে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণকাজ শেষ হতে এখনও বেশ সময় বাকি। তবে এরই মধ্যে ভেঙে গেছে রেললাইনের দুই পাশে পানি নিস্কাশনের জন্য তৈরি করা ড্রেন, দুই পাশের মাটিও ধসে পড়েছে। মূল নকশার ভুলে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগেই ড্রেনগুলোর এ অবস্থা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। এ ছাড়া ভারতের ঋণের টাকায় নির্মাণাধীন এ প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে কিনা, তাও নিশ্চিত করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর স্টেশন পর্যন্ত রেল সড়কের দূরত্ব ১১ কিলোমিটার হলেও প্রয়োজনের কারণে নির্মাণ করা হচ্ছে ১৬-১৭ কিলোমিটার লাইন। একই সঙ্গে চলছে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের কাজ। সরেজমিন দেখা যায়, নির্মাণাধীন রেল সড়কের টঙ্গীর হায়দরাবাদ, দক্ষিণখানসহ বিভিন্ন স্থানে ড্রেন ভেঙে গেছে। ধসে পড়েছে মাটি। হায়দরাবাদ এলাকার বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, উদ্বোধনের আগেই রেললাইনের ড্রেন ভেঙে পড়ছে। এটা গাফিলতি ও উদাসীনতা।

ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনের প্রকল্প পরিচালক নাজনীন আরা কেয়া জানান, ভেঙে পড়া ড্রেনের কিছু অংশ পরিদর্শন করেছেন। মূল নকশায় থাকা ইটের ড্রেন এখানে টেকসই হচ্ছে না। এখন আরসিসি ড্রেন করতে হবে।

এদিকে টঙ্গী থেকে ঢাকা এবং জয়দেবপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত মোট ৬৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের এ প্রকল্প কবে শেষ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর অংশের কাজ ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারের কারণে তা শেষ করা সম্ভব হয়নি। ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আফকন কল্পতরু জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রকল্প এলাকায় সময় মতো পিওয়ে ফিটিংস, পাথর ও স্লিপারসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ করতে পারেনি। এ ছাড়া করোনার কারণে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় দক্ষ জনবল আনা সম্ভব হয়নি। নির্মাণ সামগ্রী আনাও বাধাগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে এমন ধীর গতি। প্রকল্প পরিচালক নাজনীন আরা কেয়া জানান, প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। এতে ভারতের ঋণের পরিমাণ ৯০২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে।